বরাক তরঙ্গ, ২৪ জুন : আসন্ন অসম বিধানসভা অধিবেশন ও নতুন অর্থবর্ষের বাজেটকে সামনে রেখে জনস্বাস্থ্য কারিগরি (পিএইচই) বিভাগের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রাক-বাজেট বৈঠক বুধবার জনতা ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নিরাপদ পানীয় জল সরবরাহ, স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিশেষ মুখ্য সচিব সাইদেইন আব্বাসি, স্বচ্ছ ভারত মিশন (গ্রামীণ)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কীর্তি জল্লি, প্রধান প্রকৌশলী (স্যানিটেশন) ভাস্কর জ্যোতি শর্মা, প্রধান প্রকৌশলী (জল) পল্লব কৃষ্ণ দাস-সহ বিভাগের শীর্ষ আধিকারিকরা।
সূত্রের খবর, বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্পের অগ্রগতি, গ্রামীণ ও শহুরে এলাকায় স্যানিটেশন অবকাঠামোর বর্তমান অবস্থা এবং আগামী বাজেটে অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।
বিশেষ গুরুত্ব পায় কেন্দ্রের ‘জল জীবন মিশন’-এর অধীনে অসমে চলমান প্রকল্পগুলি। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে চা-বাগান অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে প্রতিটি পরিবারের কাছে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানীয়জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে চলমান উদ্যোগকে আরও গতিশীল করার ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি জল সংরক্ষণ, পানীয় জলের গুণমান বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি জল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কার্যকর পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, “নিরাপদ পানীয় জল ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত। রাজ্য সরকারের উন্নয়ন নীতির কেন্দ্রে রয়েছে জনস্বাস্থ্য ও জনকল্যাণ। সেই লক্ষ্য পূরণে আগামী বাজেটে পিএইচই বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”
এছাড়াও স্বচ্ছ ভারত মিশন (গ্রামীণ)-এর অধীনে গ্রামীণ স্যানিটেশন, কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। আধিকারিকরা জানান, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

বৈঠকে জানানো হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পানীয়জল ও স্যানিটেশন খাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের ফলে রাজ্যের বহু এলাকায় নতুন জল সরবরাহ প্রকল্প চালু হয়েছে এবং হাজার হাজার পরিবার প্রথমবারের মতো পাইপলাইনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানীয় জল পাচ্ছেন। আগামী বাজেটে এই উন্নয়নের ধারাকে আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন জেলার বাস্তব চাহিদা, প্রকল্প বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়েও মতামত তুলে ধরেন উপস্থিত আধিকারিকরা। দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিষেবার মান আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
বৈঠক শেষে আশা প্রকাশ করা হয়, আসন্ন বাজেটে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও নতুন উদ্যোগগুলি অসমের পানীয় জল ও স্যানিটেশন খাতে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খাতে সুপরিকল্পিত বিনিয়োগ ও কার্যকর বাস্তবায়ন জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামগ্রিক সামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



