বরাক তরঙ্গ, ১৮ জুন : আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরের পরীক্ষার ফলপ্রকাশে অনিয়ম, গাফিলতি এবং পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ছাড়াই চার বছরের ডিগ্রি কোর্স চালুর প্রতিবাদে বুধবার শিলচরের ডিমাসা সাংস্কৃতিক ভবনে ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও’র উদ্যোগে বরাক উপত্যকাভিত্তিক এক ছাত্র অভিবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বরাক উপত্যকার বিভিন্ন কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করেন।
অভিবর্তনের প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এআইডিএসও’র রাজ্য কাউন্সিলের সভাপতি হিল্লোল ভট্টাচার্য। তিনি বক্তব্যে বলেন, আসাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার তিন দশকেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও এখনও সময়মতো ও ত্রুটিমুক্তভাবে পরীক্ষার ফল প্রকাশে ব্যর্থ হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত স্নাতক পরীক্ষার ফলাফলে বহু শিক্ষার্থীর নামের পাশে ‘অনুপস্থিত’ উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। একই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ফলের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ নম্বর প্রদানের অভিযোগও সামনে এসেছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি) ২০২০ অনুসরণ করে পর্যাপ্ত শিক্ষক, কর্মচারী, শ্রেণিকক্ষ, গ্রন্থাগার ও গবেষণাগারের ব্যবস্থা ছাড়াই চার বছরের স্নাতক পাঠ্যক্রম চালু করা হয়েছে। বহু কলেজে চতুর্থ বর্ষের পাঠদান ও গবেষণামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। হিল্লোল ভট্টাচার্যের দাবি, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ও ব্যক্তিগতকরণের লক্ষ্যেই জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে আর্থিকভাবে সচ্ছল শিক্ষার্থীরা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ পেলেও দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সভা থেকে ছাত্রছাত্রীদের দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ ও তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বানও জানানো হয়।
এ দিন ডিএসও’র কাছাড় জেলা কমিটির সভাপতি স্বাগতা ভট্টাচার্য এবং রাজ্য কাউন্সিলের যুগ্ম সম্পাদক ও ‘করিমগঞ্জ’ জেলা কমিটির সম্পাদক সঞ্চিতা শুক্লের নেতৃত্বে গঠিত সভাপতিমণ্ডলীর পরিচালনায় সভায় মূল প্রস্তাব উত্থাপন করেন সঞ্চিতা শুক্ল এবং সমর্থনে বক্তব্য রাখেন রাজ্য কাউন্সিলের যুগ্ম সম্পাদক পল্লব ভট্টাচার্য।

দীর্ঘ আলোচনার পর অভিবর্তনে পাঁচ দফা দাবি গৃহীত হয়। দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে স্নাতক পরীক্ষার ফলপ্রকাশে অনিয়ম ও গাফিলতির তদন্ত করে বৈজ্ঞানিক ও নির্ভুল মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা, তিন বছরের স্নাতক কোর্সে ‘মেজর’ বিষয়সহ উত্তীর্ণদের শংসাপত্রে তা উল্লেখ করা, স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তির জন্য পর্যাপ্ত আসন বৃদ্ধি, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে পূর্বের মতো তিন বছরের স্নাতক কোর্স বহাল রাখা এবং চার বছরের ডিগ্রি কোর্সকে ঐচ্ছিক হিসেবে চালু করে শুধুমাত্র আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখার ব্যবস্থা করা। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, দাবিগুলির সমর্থনে প্রতিটি কলেজে ছাত্রছাত্রীদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
অভিবর্তনে বরাক উপত্যকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চ নম্বর অর্জন করেও বহু শিক্ষার্থী ভর্তি হতে না পারার বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ভর্তি সঙ্কট নিরসনের দাবিতে তিন জেলার শিক্ষা-সম্পর্কিত প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছে স্মারকপত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অভিবর্তন শেষে কাছাড় জেলা কমিটির পক্ষ থেকে শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আয়ুক্তের নিকট স্মারকপত্র জমা দিয়ে বিশেষত কাছাড় কলেজের কমার্স বিভাগের ভর্তি সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবি জানানো হয়।



