শিলচরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ৭৩তম আত্মবলিদান দিবস

Spread the news

দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২৩ জুন :
যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার শিলচরে পালিত হলো ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ৭৩তম আত্মবলিদান দিবস। শিলচরের শ্যামাপ্রসাদ রোডে অবস্থিত তাঁর পূর্ণাঙ্গ মূর্তির পাদদেশে শ্যামাপ্রসাদ স্মারক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সকাল ৯টায় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে উপস্থিত অতিথিরা ড. মুখার্জির মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য, জেলা বিজেপি সভাপতি রূপম সাহা, প্রাক্তন বিধায়ক নীহাররঞ্জন দাস ও দীপায়ন চক্রবর্তী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি মেমোরিয়াল স্বার্থ সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি হারাণ দে সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। প্রতি বছর ২৩ জুন ‘বলিদান দিবস’ হিসেবে পালিত হয় ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৫৩ সালের এই দিনে কাশ্মীরে বন্দি অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। সেই ঐতিহ্য বজায় রেখেই এ বছরও শিলচরে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য ড. মুখার্জির রাজনৈতিক জীবন, দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদী আদর্শের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাধীন ভারতের প্রথম মন্ত্রিসভার শিল্প ও সরবরাহমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে সংগঠিত করতে ড. মুখার্জি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর উদ্যোগেই ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীকালে বিজেপিতে রূপান্তরিত হয়েছে।

এদিকে, জেলা বিজেপির প্রবীণ নেতা নৃত্যভূষণ দে বলেন, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি অখণ্ড ভারতের স্বপ্নদ্রষ্টা ও একজন মহান দেশপ্রেমিক ছিলেন। কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি স্মারক সমিতির সভাপতি রমাপদ ভট্টাচার্য জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ড. মুখার্জির ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ৬ জুলাই সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। তিনি আসাম সরকারকেও একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক সঙ্গীত পরিবেশন করেন শান্তিকুমার ভট্টাচার্য এবং তবলায় সঙ্গত করেন উৎপল দত্ত। সমবেত জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *