২৩ জুন : সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। আর একদিন পরেই ছিল মেয়ের বিয়ে। কিন্তু সেই আনন্দের আবহ মুহূর্তে বদলে গেল শোকে। বিয়ের ঠিক একদিন আগে নিজের বাড়িতে আত্মহত্যা করলেন হবু কনে। একই সঙ্গে আত্মঘাতী হয়েছেন তাঁর বাবা ও মা-ও। কর্ণাটকের মাইসুরু জেলার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাইসুরুর টি নরসিপুরা থানার অন্তর্গত কেম্পায়ানাহুন্ডি গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। মৃতদের নাম শিবান্না (৫০), তাঁর স্ত্রী নাগরত্না (৪৫) এবং তাঁদের ২১ বছর বয়সি মেয়ে রক্ষিতা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পরিবারের তিন সদস্যই বিষ পান করে আত্মহত্যা করেছেন।
বিয়ের আগের দিন এমন মর্মান্তিক ঘটনায় হতবাক স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান মাইসুরু জেলার পুলিশ সুপার মল্লিকার্জুন বালাদণ্ডি। তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, গত কয়েক দিন ধরে তীব্র মানসিক চাপে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ, একই গ্রামের বাসিন্দা উল্লাস গৌড়া নামে এক ব্যক্তি তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উল্লাস গৌড়া রক্ষিতাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অন্য এক যুবকের সঙ্গে রক্ষিতার বিয়ে চূড়ান্ত হওয়ার পর তিনি ওই সম্পর্ক ভাঙার চেষ্টা শুরু করেন। অভিযোগ, হবু বরকে বিভিন্ন বার্তা ও ছবি পাঠিয়ে রক্ষিতার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করেন উল্লাস। তদন্তকারীদের ধারণা, বিয়ের সম্পর্ক নষ্ট করতেই এমন পদক্ষেপ করেছিলেন তিনি।
এদিকে, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। সূত্রের দাবি, ওই নোটে মৃত্যুর জন্য উল্লাস গৌড়াকে দায়ী করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেননি তদন্তকারী আধিকারিকরা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



