২৭ সেপ্টেম্বর : শনিবার গভীর রাতে পঞ্জাবের ফাগওয়ারা সংলগ্ন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়াল তীব্র উত্তেজনা। এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ছাত্রীদের হস্টেলের সামনে এসে জমায়েত হন প্রায় দুই হাজার ক্ষুব্ধ পড়ুয়া। পরিস্থিতি দ্রুত হাতের বাইরে চলে যায় এবং আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। বিক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীরা ক্যাম্পাসের ভবনের জানলার কাঁচ ও শ্রেণিকক্ষের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করার পাশাপাশি ইঁট ও পাথর ছুড়তে শুরু করেন। এমনকি প্রতিষ্ঠানের একটি অংশে আগুন লাগানোর মতো ঘটনাও ঘটে। এই উত্তেজনার ঢেউ শুধু ক্যাম্পাসের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা ছড়িয়ে পড়ে জাতীয় সড়কেও। পড়ুয়ারা রাজপথ অবরোধ করায় তীব্র যানজট তৈরি হয় এবং স্বাভাবিক চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী এবং ধাপে ধাপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। কাপুরথানার সিনিয়র পুলিশ সুপার গৌরব তুরা জানান, ক্যাম্পাসের কৃষি বিভাগের কাছাকাছি এলাকায় পূর্বে এক মহিলার আত্মহত্যার ঘটনা ঘটলেও, গণধর্ষণের কোনও অভিযোগ বা প্রমাণ তাঁদের হাতে আসেনি। তিনি বলেন, ‘কিছু পড়ুয়া দাবি করেছেন, এক ছাত্রী গণধর্ষিত হয়েছেন। যদিও আমরা এই দাবির সপক্ষে কোনও প্রমাণ পাইনি। এই নিয়ে অভিযোগও পাইনি।’ পুলিশ সূত্রে আরও জানানো হয়েছে যে, এই নির্যাতিতার সুনির্দিষ্ট পরিচয় কেউ সামনে আনতে পারেননি।
এদিকে, গোটা ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানের রেজিস্টার মোনিকা গুলাতি একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানহানি করার উদ্দেশ্যে কিছু সমাজবিরোধী চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে এই অসত্য তথ্য প্রচার করেছে। কোনও ধরনের গুজবে কান না দিয়ে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যের ওপর ভরসা রাখার জন্য তিনি পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অবরোধ হটিয়ে জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।



