মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২ অক্টোবর : দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বর্ষার ভয়াবহ ভাঙনে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে ডেঙ্গারবন্দ-আসাইঘাট গ্রামীণ সড়ক। রাস্তার একটি বড় অংশ পাশের ছড়ায় তলিয়ে যাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, রোগী ও সাধারণ পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
জানা গেছে, লোয়াইরপোয়া ব্লকের সলগই বাজার সংলগ্ন ৮ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে ডেঙ্গারবন্দ-আসাইঘাট পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের প্রায় একশো মিটার অংশ গত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হাতাইছড়া ছড়ায় তলিয়ে যায়। বর্তমানে ওই পথে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়েছে।
আসাইঘাট, পেচারঘাট, লক্ষ্মীমামলা, হৈলামছড়া, মাগুরছড়া ও কালাছড়া-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম এই সড়ক। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে রাস্তার বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়লেও স্থায়ী মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এবারের বন্যায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে শুক্রবার স্থানীয় কয়েকজন যুবক নিজেদের মধ্যে চাঁদা সংগ্রহ করে ভাঙা অংশে মাটি, বালি ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে সাময়িক সংস্কারের কাজে নামেন। তাঁদের উদ্যোগে আপাতত কিছুটা স্বস্তি মিললেও স্থানীয়দের দাবি, এই জোড়াতালি কোনও স্থায়ী সমাধান নয়। প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সড়কটির পূর্ণাঙ্গ পুনর্নির্মাণ।

এদিকে, এই রুটে লঙ্গাই নদীর উপর দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তাবিত পাকা সেতু নির্মাণ না হওয়ায় যোগাযোগ সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। তাঁদের দাবি, সেতুটি নির্মিত হলে বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে।
সামনে দুর্গাপূজা। উৎসবের সময় এই পথে মানুষের যাতায়াত আরও বাড়বে। তাই দুর্গাপূজার আগেই সড়কের বিপজ্জনক অংশ স্থায়ীভাবে মেরামতের দাবি উঠেছে। স্থানীয়রা পঞ্চায়েত প্রতিনিধি, বিডিও, সার্কেল অফিসার, জেলা প্রশাসন এবং সমষ্টির বিধায়ক তথা রাজ্য সরকারের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এলাকাবাসীর বক্তব্য, সাময়িক সংস্কার নয়, দ্রুত স্থায়ীভাবে সড়ক পুনর্নির্মাণ এবং প্রস্তাবিত লঙ্গাই নদীর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় আগামী দিনে দুর্ঘটনা ও দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।



