বরাক উপত্যকার কৈবর্ত সমাজের আর্থ-সামাজিক সমীক্ষা ও পৃথক উন্নয়ন কাউন্সিলের দাবি

Spread the news

রূপক চক্রবর্তী ও দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২ আগস্ট :
বরাক উপত্যকার কৈবর্ত সমাজের প্রকৃত আর্থ-সামাজিক অবস্থার মূল্যায়নে নতুন সমীক্ষা, পৃথক অর্থনৈতিক উন্নয়ন কাউন্সিল গঠন এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধিসহ একাধিক দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কাছে স্মারকলিপি দাখিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বরাক উপত্যকা কৈবর্ত সমাজ উন্নয়ন পরিষদ (কেন্দ্রীয় কমিটি, শিলচর)। রবিবার শিলচরের আশ্রম রোডে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে পরিষদের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়।

পরিষদের সভাপতি সুজিত দাস চৌধুরী বলেন, গত প্রায় দুই দশক ধরে সংগঠনটি বরাক উপত্যকার তিন জেলায় বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজ করে আসছে। কোভিড-১৯ মহামারি, বন্যা ও অন্যান্য দুর্যোগের সময় খাদ্যসামগ্রী, বস্ত্র ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে পরিষদ। তিনি বলেন, বর্তমানে একাধিক কৈবর্ত সংগঠন গড়ে উঠলেও অনেক সংগঠন সমাজকল্যাণমূলক কাজের পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে বেশি আগ্রহী। সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে সকল সংগঠনকে মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

পরিষদের দাবি, ১৯৮৭ সালে বেলতলার ট্রাইবাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে অসমের কৈবর্ত সমাজের আর্থ-সামাজিক সমীক্ষা পরিচালিত হলেও তা ১৯৭১ সালের জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতে সীমিত পরিসরে হয়েছিল। ৭৭০টি কৈবর্ত অধ্যুষিত গ্রামের মধ্যে মাত্র ৭৭টিতে সমীক্ষা চালানো হয় এবং তাতেই সমাজের পিছিয়ে থাকার চিত্র উঠে আসে। বর্তমানে চলমান জনগণনার পরিপ্রেক্ষিতে বরাক উপত্যকার কৈবর্ত সমাজের প্রকৃত আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিরূপণে আসাম বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারের উপযুক্ত সংস্থার মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা পরিচালনার দাবি জানিয়েছে পরিষদ।

সংগঠনের বক্তব্য, ঐতিহ্যগতভাবে কৈবর্তরা মৎস্যজীবী হলেও বর্তমানে জীবিকার প্রয়োজনে অনেকেই দিনমজুরি, ই-রিকশা চালানোসহ বিভিন্ন পেশায় যুক্ত। তবুও শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বাসস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সমাজটি এখনও পিছিয়ে রয়েছে। তাই তাদের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পৃথক অর্থনৈতিক উন্নয়ন কাউন্সিল গঠনের দাবি তোলা হয়েছে।

এছাড়া পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে বিধানসভা ও লোকসভা পর্যন্ত কৈবর্ত সমাজের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও স্মারকলিপিতে উল্লেখ থাকবে বলে পরিষদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন শিলচর পুরনিগম নির্বাচনে অন্তত সাতটি ওয়ার্ডে কৈবর্ত সমাজের প্রার্থীদের বিজেপির মনোনয়ন দেওয়ার দাবিও স্মারকলিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নিশিকান্ত সরকার, সহ-সভাপতি উপেন্দ্র দাস ও সূর্য দাস, কোষাধ্যক্ষ অর্জুন চৌধুরী এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বিশ্বজিৎ দাস, জয় দাস, শ্যামচরণ দাস, অশোক সরকার ও জ্যোতিলাল দাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *