মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৮ অক্টোবর : নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও ভোটপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে করিমগঞ্জে ধরনা ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করল জেলা কংগ্রেস। কংগ্রেসের ঘোষিত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও সপ্তাহ’ এবং ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও সপ্তাহ’-এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ইন্দিরা ভবন সংলগ্ন ব্রিজ রোডে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কালো ব্যাজ ধারণ করে জেলা কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদে সামিল হন। ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগানও দেন তাঁরা।
ধরনা কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান শাহাদাত আহমদ চৌধুরী স্বপন বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে রক্ষা করতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাব প্রয়োজন। তাঁর দাবি, কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোটের সমর্থকরা দেশজুড়ে একই দাবিতে প্রতিবাদে নেমেছেন। রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নেতৃত্বে এই আন্দোলন চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্বপন জানান, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেসের আন্দোলন ধারাবাহিকভাবে চলছে। গত সপ্তাহে জেলা কংগ্রেস সভাপতি তাপস পুরকায়স্থ, উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক জাকারিয়া আহমদ এবং দক্ষিণ করিমগঞ্জের বিধায়ক আমিনুর রশিদ চৌধুরীর নেতৃত্বে মিছিল করে জেলা কমিশনারের কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এদিনের ধরনা অনুষ্ঠিত হয়।
তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনারের ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ ও ভোট কারচুপির অভিযোগের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুরি, সহ-সভাপতি এ কে তাপাদার এবং সাধারণ সম্পাদক রাইস চৌধুরীও বক্তব্য রাখেন। বক্তারা ভোটাধিকারকে গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার দাবি জানান।

জেলা কংগ্রেস সভাপতি তাপস পুরকায়স্থ নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুর কারণে এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে পারেননি। ধরনায় ধ্রুবজ্যোতি দাস, আব্দুল ওয়ারিস, অহিরঞ্জন দে, মানিক চন্দ্র দে, হোসেন আহমদ চৌধুরী, গৌরাঙ্গ দে, হাসিনা রহমান, হিফজুর রহমান, কুবের প্রসাদ যাদব, মুজিবুর রহমান, রঞ্জিত রায়-সহ জেলা কংগ্রেসের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন ব্লক কংগ্রেস ও শাখা সংগঠনের কর্মীরাও কর্মসূচিতে যোগ দেন।
এদিনের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নির্বাচন ব্যবস্থা ও ভোটাধিকার নিয়ে করিমগঞ্জে কংগ্রেসের রাজনৈতিক প্রতিবাদ আরও জোরদার করার বার্তা দেওয়া হয়।



