মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৯ এপ্রিল : নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তার আগেই করিমগঞ্জ কলেজের স্ট্রং রুমকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। শাসক-বিরোধী সহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের ভাগ্য এখন ইভিএমে বন্দি অবস্থায় এই স্ট্রং রুমে সংরক্ষিত। কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যেও ইভিএমগুলিকে ঘিরে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলির বাড়তি নজর স্পষ্ট।
এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার করিমগঞ্জ কলেজের স্ট্রং রুম পরিদর্শনে আসে কংগ্রেসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি দল। মানকাচরের বিধায়ক আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে দলটি সরেজমিনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ইভিএম সংরক্ষণের পদ্ধতি এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখে। ফল ঘোষণার আগে এই পরিদর্শন রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর শ্রীভূমি জেলার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই স্ট্রং রুমে রাখা ইভিএমগুলির উপর। ফলে ফল ঘোষণার আগে নিরাপত্তা ও গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে বিরোধী শিবিরের উদ্বেগ নতুন নয়। কংগ্রেস নেতৃত্ব জানিয়েছে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখতে হলে ভোট গণনার প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ সতর্কতা, নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈয়ের নির্দেশে বরাক উপত্যকার বিভিন্ন স্ট্রং রুম পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই পরিদর্শন। প্রতিনিধি দল শুধু ঘুরে দেখাই নয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থার খুঁটিনাটি বিষয়ও বিস্তারিতভাবে পর্যবেক্ষণ করে।
স্ট্রং রুমের বাইরে মোতায়েন নিরাপত্তা বাহিনী, সিসিটিভি নজরদারি, প্রবেশ ও বহির্গমন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, প্রশাসনিক তদারকি এবং ইভিএম সংরক্ষণের পদ্ধতি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়। ভোট গণনার দিন যাতে কোনও ধরনের বিতর্ক বা অনিয়মের সুযোগ না থাকে, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এদিন প্রতিনিধি দলটি জেলার জেলাশাসকের সঙ্গেও আলোচনা করে। সেখানে শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোট গণনা সম্পন্ন করার বিষয়ে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানানো হয়। কংগ্রেস নেতৃত্বের মতে, ভোট শুধু রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, এটি গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি—তাই গণনার প্রতিটি ধাপে জনগণের বিশ্বাস অটুট রাখা প্রশাসনের দায়িত্ব।

আগামী সোমবার নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা হওয়ার কথা। তার আগে এই ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতাকে বিরোধী শিবিরের কৌশলগত সতর্কতা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। এবারের নির্বাচনে একাধিক আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ায় ফলাফল ঘিরে উত্তেজনা ও জল্পনা বেড়েছে।
প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী অজিত সিং, শিলচর বিধানসভার প্রার্থী অভিজিৎ পাল, উত্তর করিমগঞ্জ আসনের প্রার্থী জাকারিয়া আহমেদ পান্না সহ একাধিক নেতা। এছাড়াও আমিনুল ইসলাম, বদরুল ইসলাম বড়ভূইয়া, তাপস পুরকায়স্থ, সাহাদত আহমদ চৌধুরী, প্রদীপ কুরি, রাজন চৌধুরী, ধ্রুবজ্যোতি দাস, প্রদীপ গোয়ালা, হাসিনা রহমান চৌধুরী, কমর উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
স্ট্রং রুম পরিদর্শন ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, ফল প্রকাশের আগে এই সক্রিয় নজরদারি বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা—ভোট গণনায় কোনও ধরনের অসঙ্গতি বরদাস্ত করা হবে না।
এখন জেলার সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক মহল—সবার নজর আগামী সোমবারের ফল ঘোষণার দিকে। কার ভাগ্যে জয়, কার হাতে পরাজয়—তার উত্তর লুকিয়ে রয়েছে করিমগঞ্জ কলেজের কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা সেই স্ট্রং রুমের ভেতরেই।



