বরাক তরঙ্গ, ৬ জুন : পাথারকান্দিতে কথিত মোরাল পুলিশিংয়ের ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয়ে শিলচর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই যুবকের পাশে দাঁড়িয়েছে শিলচরের সুশীল সমাজ। শনিবার সামাজিক সংগঠন হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের সভাপতি শিহাবুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল হাসপাতালে গিয়ে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেয় এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। পরে প্রতিনিধিদল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান ডাঃ দেবব্রত সিনহা, শল্যচিকিৎসক ডাঃ সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য এবং ডাঃ অপূর্ব চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করে আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করে। চিকিৎসকরা প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করে জানান, আহতদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা করা হচ্ছে না। শরীরে বিদ্ধ গুলি অপসারণের জন্য শীঘ্রই অস্ত্রোপচার করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সার্জারি বিভাগের প্রধান জানান, অস্ত্রোপচারের সময় রক্তের প্রয়োজন হতে পারে। এ প্রসঙ্গে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বলেন, বরাক উপত্যকার সর্বস্তরের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রয়েছে। রক্তের প্রয়োজন হলে হাজারো যুবক-যুবতী স্বতঃস্ফূর্তভাবে রক্তদানে এগিয়ে আসবেন।
প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই তারা আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তবে চিকিৎসায় কোনো ধরনের গাফিলতি বা অবহেলা পরিলক্ষিত হলে শিলচরসহ সমগ্র বরাক উপত্যকার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবেন বলেও তারা সতর্ক করেন।
অন্যদিকে, ডাঃ সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য পুনরায় আশ্বস্ত করে বলেন, আহতদের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এদিন প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে আহতদের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তাও তুলে দেওয়া হয়।
প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বাঙালি’-র অসম রাজ্য সচিব প্রধান সাধন পুরকায়স্থ, সিআরপিসির আলি রেজা ওসমানি, সমাজকর্মী সঞ্জীব রায়, লেখিকা বিজয়া কর সোম, হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের আব্দুল রৌফ চৌধুরী, রেজাউল করিম বড়ভুঁইয়া, মিলন উদ্দিন লস্কর, সামিনুল হক বড়ভুঁইয়া, মশহুরুল বারী, বাবর লস্করসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।



