মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৬ জুন : দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা সুতারকান্দি ল্যান্ড পোর্টে পুনরায় পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চালুর দাবিতে নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন দক্ষিণ করিমগঞ্জের বিধায়ক আমিনুর রসিদ চৌধুরী। টানা দুই দিনে তিনি ল্যান্ড পোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (এলপিএআই) চেয়ারম্যান জয়ন্ত সিংহ এবং কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে শ্রীভূমি জেলার সীমান্ত বাণিজ্য, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
বিধায়ক জানান, সুতারকান্দি ল্যান্ড পোর্ট শুধু একটি স্থলবন্দর নয়, বরং শ্রীভূমি জেলার অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। এই বন্দরের সঙ্গে হাজার হাজার ব্যবসায়ী, ট্রাক মালিক, পরিবহন কর্মী, শ্রমিক, কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্ট ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার জীবিকা জড়িত। তাই বন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান, সুতারকান্দি দিয়ে পুনরায় সব ধরনের পণ্যের আমদানি-রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হোক। তাঁর বক্তব্য, ১৭ মে ২০২৫-এ ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি)-এর বিজ্ঞপ্তির পর বহু ধরনের পণ্যের আমদানি-রপ্তানি সীমিত হয়ে পড়ায় সীমান্ত বাণিজ্যে বড় ধাক্কা লাগে। এর ফলে ব্যবসায়ী, পরিবহন সংস্থা ও শ্রমজীবী মানুষের উপর ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রভাব পড়েছে।
বৈঠকে সুতারকান্দি ল্যান্ড পোর্টের আধুনিকীকরণ, উন্নত গুদাম নির্মাণ, ডিজিটাল কাস্টমস ব্যবস্থা, ট্রাক টার্মিনাল সম্প্রসারণ, লজিস্টিক পার্ক গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক মানের কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সীমান্ত, জাতীয় সড়ক ও রেল যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে শ্রীভূমিকে শিল্প ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনাও তুলে ধরেন বিধায়ক।
আমিনুর রসিদ চৌধুরীর দাবি, সুতারকান্দিতে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চালু হলে শুধু সীমান্ত বাণিজ্যই নয়, সরকারের রাজস্ব, পরিবহন শিল্প এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। এদিকে, ব্যবসায়ী ও পরিবহন মহলও আশা প্রকাশ করেছে, দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হলে শ্রীভূমি ও সমগ্র বরাক উপত্যকার অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে।



