১৪ এপ্রিল : হরমুজ অবরোধ নিয়ে এবার আমেরিকাকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল চিন। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে (ভারতীয় সময় অনুযায়ী) কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ শুরু হতেই এই বার্তা দিয়েছে বেজিং। চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অ্যাডমিরাল ডং জুন সাফ জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চিনের দ্বিপাক্ষিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কের পথে আমেরিকা যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ডং জুন বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ও জ্বালানি চুক্তি রয়েছে। আমরা আশা করি অন্যরা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।’ তিনি আরও জানান যে, হরমুজ প্রণালী চিনের জন্য সব সময় খোলা থাকবে। উল্লেখ্য, চিনের মোট তেলের চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ এবং এলএনজি চাহিদার ৩০ শতাংশ সরবরাহ আসে এই পথ দিয়ে। ফলে এই জলপথের ওপর কোনও নিয়ন্ত্রণই মেনে নেবে না বেজিং। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবরোধের লক্ষ্য হল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ‘পেট্রোডলার’-এর একাধিপত্য বজায় রাখা এবং চিনের ‘ইউয়ান’-এর প্রভাব কমানো।
গত ১১ এপ্রিল ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানি বন্দর অভিমুখী বা ইরান থেকে আসা সমস্ত জাহাজ এই অবরোধের আওতায় থাকবে। নিরপেক্ষ জাহাজ চলাচলের অনুমতি থাকলেও, তাতে তল্লাশি চালানোর অধিকার রাখবে মার্কিন নৌবাহিনী। মূলত ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিতেই এই চাল চেলেছে হোয়াইট হাউস।
অন্যদিকে, চিন প্রথম থেকেই এই অঞ্চলে যুদ্ধবিরতির পক্ষে সওয়াল করে আসছে। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে তারা গঠনমূলক ভূমিকা নিতে প্রস্তুত। তবে সংঘাতের আবহ আরও জোরালো হয়েছে ট্রাম্পের এক হুমকিতে। মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, চিন ইরানকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করলে চিনা পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে। যদিও এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে বেজিং। সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও চিনের এই স্নায়ুযুদ্ধ বর্তমানে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।



