অসমে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে প্রসূতি মাতৃমৃত্যুর হার, দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৬ জুন : অসমে প্রসূতি মাতৃমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। শুক্রবার তিনি জানান, এক সময় মাতৃমৃত্যুর হারে দেশের মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা অসম এখন এই ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। তাঁর দাবি, রাজ্যে বছরে যেখানে একসময় প্রায় ৪৮০ জন প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হতো, বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৮৪-এ।

শুক্রবার আইআইটি গুয়াহাটির মাছখোয়া ক্যাম্পাসে মারোয়ারি দাতব্য ঔষধালয়ের ১১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়ন, চিকিৎসা পরিষেবার সম্প্রসারণ, মাতৃসেবায় বিশেষ গুরুত্ব এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ফলেই এই সাফল্য এসেছে।

তিনি বলেন, “এক সময় প্রসূতি মাতৃমৃত্যুর হার ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বর্তমানে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে জাতীয় গড়েরও নিচে নেমে এসেছে। স্বাস্থ্যখাতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ এবং মাতৃসুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ফলেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আগে প্রতি বছর অসমে প্রায় ৪৮০ জন প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হতো। এখন সেই সংখ্যা কমে ৮৪-এ নেমে এসেছে। একসময় এই সূচকে অসম দেশের একেবারে শেষের সারিতে থাকলেও বর্তমানে রাজ্যটি দেশের শীর্ষ দশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে।”

এসআরএস বুলেটিন ২০২২-২৩ এবং জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষা (এনএফএইচএস)-এর তথ্যের উল্লেখ করে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “২০০৬ সালে আমি যখন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন অসমে মাতৃমৃত্যুর অনুপাত ছিল দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রতি এক লক্ষ জীবিত সন্তানের জন্মে প্রায় ৪৮০ জন মায়ের মৃত্যু হতো।”

তিনি আরও জানান, “সেই সময় প্রায় সব জাতীয় স্বাস্থ্য সূচকেই অসম জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক পিছিয়ে ছিল। কিন্তু এসআরএস ২০২২-২৩-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, রাজ্য প্রসূতি মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে ৮৪-এ নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে, যা স্বাস্থ্যখাতে অসমের অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *