বরাক তরঙ্গ, ২৬ জুন : ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার রামনগর ৪ নম্বর রোডে একটি আবাসনের ফ্ল্যাটে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ যুবক শুভ্রজিৎ চৌধুরীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এই বিস্ফোরণে অন্তত ১০ থেকে ১২টি ফ্ল্যাট ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দুইজন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে সিপি অ্যাবাকাসের কর্মী শুভ্রজিৎ চৌধুরীর শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে যায়। তাকে দ্রুত জিবি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাপার্টমেন্ট ঘুরে দেখেন এবং বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরেই তিনি বিস্ফোরণের খবর পান। সঙ্গে সঙ্গেই আগরতলা পুরনিগমের মেয়র দীপক মজুমদারকে ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। গুরুতর আহত শুভ্রজিৎ চৌধুরীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে পাঠানোর সমস্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে তার আগেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রী জানান, যে ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণ হয়েছে তার উপরের তলায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হলেও নিচের ফ্ল্যাটের গ্যাস পাইপের সংযোগ খোলা অবস্থায় ছিল। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস জমে ছিল বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। শুভ্রজিৎ অফিসে এসে ধূপকাঠি জ্বালানোর পরই বিস্ফোরণ ঘটে।
এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০ থেকে ১২টি ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের দুর্যোগ মোকাবিলা তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে একটি বিশেষ তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হবে বলেও তিনি জানান।
রামনগরে অতীতে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণের সঙ্গে এ ঘটনার কোনও যোগ নেই বলেও স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, দুটি বিস্ফোরণের কারণ সম্পূর্ণ ভিন্ন।
রামনগরে অল্প সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার এ ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই ঘটনা তাঁকেও গভীরভাবে চিন্তিত করেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে ভবিষ্যতে যাতে এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সেদিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।



