বরাক তরঙ্গ, ১৬ জুলাই: বাংলা সাহিত্য সভা, অসমের ডিব্রুগড় শাখার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে সাহিত্য, সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়। অনুষ্ঠানের সূচনায় প্রদীপ প্রজ্বলন করেন ডিব্রুগড়ের নগরাধ্যক্ষ ড. সৈকত পাত্র, বাংলা সাহিত্য সভার কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মৌসুমী বাগচী এবং কার্যকরী সভাপতি অতীশ বাগচী। এরপর উপস্থিত সদস্যরা সম্মিলিতভাবে রবীন্দ্রসংগীত ‘ও আমার দেশের মাটি’ পরিবেশন করেন। তবলায় সঙ্গ দেন নন্দিতা চক্রবর্তী এবং হারমোনিয়ামে সহযোগিতা করেন শিবানী চক্রবর্তী ও তুলসী দত্ত।
অনুষ্ঠানে ‘আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে’ শিরোনামে কাব্য, গান ও কথকথ্যের সমন্বয়ে একটি সঙ্গীতালেখ্য পরিবেশিত হয়। এর রচয়িতা ছিলেন সহ-সম্পাদক কৌশিক দত্ত। পরিবেশনায় অংশ নেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাখী বাগচী, নন্দিতা চক্রবর্তী, তুলসী দত্ত, মৌলী রায়, ড. অলোক সরকার, সুস্মিতা সরকার, তিথি দাস, মোহনা বণিক ও সুদেষ্ণা দাস।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নগরাধ্যক্ষ ড. সৈকত পাত্র এবং অধ্যাপক ড. শেখর চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্য সভার গত পাঁচ বছরের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তাঁরা বলেন, সংগঠনটি অসমে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি অসমিয়া ভাষা থেকে বাংলায় গ্রন্থ অনুবাদ এবং শিশুসাহিত্যের প্রসারের বিষয়েও তাঁরা আলোকপাত করেন।
অধ্যাপক শেখর চক্রবর্তী তাঁর বক্তব্যে মাতৃভাষায় শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-নির্ভর বর্তমান সময়ে শিশু ও যুবসমাজকে মাতৃভাষার প্রতি আকৃষ্ট রাখা ভবিষ্যতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি ভাষাতত্ত্ববিদ সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়ের ভাষা ও লিপি সম্পর্কিত মতামতেরও উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনায় প্রদীপ দত্ত, নির্মল শীল, সুব্রত রায় এবং প্রবাল দাস সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ড. অলোক সরকার। তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
ডিব্রুগড় শাখার সম্পাদক ড. স্বপ্না নাথ উপাধ্যায় উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বাংলা সাহিত্য সভা একটি বটবৃক্ষের মতো ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে এবং বাংলা ভাষার স্বকীয়তা বজায় রেখে অন্যান্য ভাষা ও সাহিত্যের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে কাজ করে যাবে। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে উপস্থিত সকলে সম্মিলিতভাবে ‘হও ধরমেতে বীর, হও করমেতে বীর, হও উন্নত শীর, নাহি ভয়’ শ্লোগান উচ্চারণ করেন।



