এনএইচএম অসমে বড় প্রশাসনিক রদবদল, বরাকের তিন জেলায় ডিপিএম বদলি
মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১৫ জুলাই : রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে ন্যাশনাল হেলথ মিশন (এনএইচএম), অসম ছয়টি জেলার ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার (ডিপিএম)-দের বদলির নির্দেশ জারি করেছে। বুধবার মিশন ডিরেক্টর ড. লক্ষ্মণন এস., আইএএস স্বাক্ষরিত সরকারি আদেশে এই প্রশাসনিক রদবদলের ঘোষণা করা হয়।
এই বদলির প্রভাব পড়েছে বরাক উপত্যকার তিন জেলা—শ্রীভূমি, কাছাড় ও হাইলাকান্দিতে।
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, গোলপাড়া জেলার ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার খোরশেদ আলমকে শ্রীভূমিতে বদলি করা হয়েছে। শ্রীভূমির বর্তমান ডিপিএম হানিফ মোহাম্মদ কে. আলমকে গোলপাড়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
এছাড়া, কাছাড়ের রাহুল ঘোষকে সোনিতপুরে এবং সোনিতপুরের বিনয় দাসকে কাছাড়ে বদলি করা হয়েছে। হাইলাকান্দির মারুফ আলম বরভূইয়াকে ওয়েস্ট কার্বি আংলংয়ে এবং ওয়েস্ট কার্বি আংলংয়ের হিল্টন শইকিয়াকে হাইলাকান্দিতে পদায়ন করা হয়েছে।
সরকারি আদেশে সংশ্লিষ্ট জেলা স্বাস্থ্য সমিতিগুলিকে বদলিকৃত আধিকারিকদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি দিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের আওতায় মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য, টিকাকরণ, জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রকল্পের বাস্তবায়ন আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই প্রশাসনিক রদবদল করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধিই এর মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, বরাক উপত্যকার তিন জেলায় সাম্প্রতিক শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বদলিকে ঘিরে স্বাস্থ্য মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও সরকারি আদেশে শিশু মৃত্যুর প্রসঙ্গের কোনো উল্লেখ নেই এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিক সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পর স্বাস্থ্য পরিষেবায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে প্রশ্নও উঠেছে, শিশু মৃত্যুর মতো বহুমাত্রিক ঘটনার দায় শুধুমাত্র জেলা প্রোগ্রাম ম্যানেজারদের ওপর বর্তায় কি না। কারণ জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবা পরিচালনায় সিভিল সার্জন, যুগ্ম স্বাস্থ্য অধিকর্তা, বিভিন্ন কর্মসূচির নোডাল অফিসারসহ একাধিক প্রশাসনিক ও চিকিৎসা আধিকারিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
স্বাস্থ্য মহলের একাংশের মতে, যদি শিশু মৃত্যুর ঘটনাই প্রশাসনিক পদক্ষেপের অন্যতম কারণ হয়ে থাকে, তাহলে অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
তবে এনএইচএম অসম বা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এখনও পর্যন্ত বদলির নেপথ্য কারণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে এই প্রশাসনিক রদবদলকে ঘিরে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।
নতুন ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজাররা দায়িত্ব গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়ন, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য কর্মসূচির বাস্তবায়ন এবং জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধারে কতটা সফল হন, সেদিকেই এখন নজর স্বাস্থ্য মহল ও সাধারণ মানুষের।



