মেঘালয়ে সমতলবাসী ও বাঙালিদের উপর নিগ্রহের স্থায়ী সমাধানের দাবি বিডিএফের

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২১ আগস্ট : মেঘালয়ে সমতলবাসী তথা বাঙালিদের উপর বারবার নিগ্রহ ও হিংসাত্মক ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (বিডিএফ)। সাম্প্রতিক শিলঙের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে মেঘালয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

এক প্রেস বিবৃতিতে বিডিএফের মুখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায় বলেন, সম্প্রতি খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (কেএসইউ)-এর কালো পতাকা মিছিলকে কেন্দ্র করে শিলংয়ের বিভিন্ন এলাকায় হিংসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে সমতল এলাকার পথচারীরা আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি আসামের বহু বেসরকারি পর্যটক গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এমনকি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিকৃতিতেও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।

দত্তরায়ের অভিযোগ, কেএসইউর মিছিলটি সংগঠনের পূর্বঘোষিত দাবিগুলি পূরণে সরকারি বিলম্ব ও অবহেলার প্রতিবাদে আয়োজিত হয়েছিল। সাধারণ পথচারী, আসামের গাড়ি বা চালকদের সঙ্গে ওই দাবিগুলির কোনও সম্পর্ক ছিল না। অথচ মিছিলে অংশগ্রহণকারী একাংশ তাঁদের উপর চড়াও হন। তাঁর দাবি, এই ঘটনার দায় মেঘালয় সরকার এবং কেএসইউ নেতৃত্ব কোনওভাবেই এড়াতে পারে না।
বিডিএফের মুখ্য আহ্বায়ক বলেন, গোয়েন্দা বিভাগের কাছে আগাম তথ্য না থাকা যেমন প্রশাসনিক ব্যর্থতা, তেমনই সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন না করাও সরকারের গাফিলতি। একইভাবে, মিছিলের মধ্যে হিংসা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কেএসইউ নেতৃত্বও ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

মেঘালয় সরকার ইতোমধ্যে ছাত্র সংগঠনের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করে মামলা করেছে বলে উল্লেখ করে দত্তরায় বলেন, শুধু গ্রেফতারই যথেষ্ট নয়। যাঁদের যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও মেঘালয় সরকারকে নিতে হবে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মেঘালয়ে অনুপজাতিদের উপর এ ধরনের নিগ্রহের ঘটনা দীর্ঘদিনের। ১৯৭৯ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, শিলং শহরের প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে বাঙালিদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের হিংসা ও বৈষম্যের কারণে বহু বাঙালি পরিবার রাজ্য ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
দত্তরায়ের দাবি, একসময় মেঘালয়ের সরকারি চাকরিতে বাঙালিদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য ছিল। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি নিয়ম ও বিধিনিষেধের কারণে সেই অংশগ্রহণ অনেকটাই কমে এসেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও অনুপজাতিদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, মিছিলের দাবির সঙ্গে কোনও সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও নেতাজি ও স্বামী বিবেকানন্দের মতো সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতিতে কেন হামলা চালানো হলো। তাঁর কথায়, এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

দেশভাগের সময় ভারতে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের জন্য তাঁদের বর্তমান পরিস্থিতির কোনও দায় নেই উল্লেখ করে দত্তরায় বলেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। মেঘালয়ে বারবার বাঙালি ও অন্যান্য অনুপজাতিদের উপর হামলার ঘটনা সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

একই সঙ্গে মেঘালয়ের পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত অসমের যানবাহন ও চালকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, পর্যটন থেকে রাজ্য উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পেলেও পর্যটকদের বহনকারী যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ব্যর্থতা অত্যন্ত দুঃখজনক। ইতিমধ্যে আসামের যাত্রীবাহী গাড়ির চালকদের একাংশ এ নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন বলেও জানান তিনি।

দত্তরায় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, মেঘালয় সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য মেঘালয় সরকারকে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য করার পাশাপাশি সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।
বিডিএফের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, মেঘালয়ে অনুপজাতি ও বহিরাগতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে। মেঘালয় ভারতেরই একটি অঙ্গরাজ্য হওয়ায় প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *