বরাক তরঙ্গ, ২১ আগস্ট : শুক্রবারও অসম-মেঘালয় সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। আন্তঃরাজ্য ক্যাব চলাচলে বিধিনিষেধের জেরে পর্যটক ও নিত্যযাত্রীদের ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। মেঘালয় ক্যাব অ্যাসোসিয়েশন বন্ধের ডাক দিয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার মেঘালয়ের কোনও রেজিস্ট্রেশনযুক্ত পর্যটকবাহী গাড়ি চলাচল করবে না। শুধুমাত্র স্থানীয় ট্যাক্সি পরিষেবা চালু থাকবে।
দুই রাজ্যের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ক্যাব পরিষেবা এই বিধিনিষেধের কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গুয়াহাটির এক বাসিন্দা বলেন, “দুই রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ক্যাব পরিষেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু উভয় রাজ্যের সংগঠনগুলোর আরোপ করা বিধিনিষেধের কারণে পরিষেবা এখন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।”
বর্তমানে অসমের রেজিস্ট্রেশনযুক্ত ক্যাবকে মেঘালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে, মেঘালয়ের বাণিজ্যিক ক্যাবগুলোকেও বারাপানির কাছে আটকে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শুধুমাত্র স্থানীয় ট্যাক্সিগুলোকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
অসমের পরিবহণ কর্মীদের পক্ষ থেকে শুক্রবার জোরাবাট অবরোধের পর পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। অসমের রেজিস্ট্রেশনযুক্ত গাড়িতে হামলার ঘটনার পর গুয়াহাটি-শিলং সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
অসম স্টেট ড্রাইভার্স অ্যাসোসিয়েশন (ASDA) এবং গুয়াহাটিভিত্তিক গাড়ির চালক ও মালিকরা আন্তঃরাজ্য মহাসড়ক দিয়ে মেঘালয়ের রেজিস্ট্রেশনযুক্ত গাড়ির অসমে প্রবেশ ও বেরিয়ে যাওয়া বন্ধ করে দেন।
চলমান এই অচলাবস্থার প্রভাব পড়েছে ডুরান্ড কাপ ফুটবল ম্যাচ দেখতে শিলংমুখী পর্যটকদের ওপরও। কলকাতা থেকে আসা একদল ফুটবলপ্রেমী জানান, বিধিনিষেধের কারণে তারা শিলং যেতে সমস্যায় পড়েছেন।
এক পর্যটক বলেন, “ডুরান্ড কাপ ফুটবল ম্যাচ দেখতে আমরা কলকাতা থেকে এসেছি। কিন্তু এখন শিলংয়ের দিকে যেতে বাধার মুখে পড়ছি। মেঘালয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে আমরা কখনও ভাবিনি। আমাদের অভিজ্ঞতা খুবই খারাপ হয়েছে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আর কখনও শিলং আসব না।”
দুই প্রতিবেশী রাজ্যের মধ্যে মানুষের যাতায়াত এবং পর্যটন ব্যবস্থায় এই বিধিনিষেধের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তঃরাজ্য ট্যাক্সি দুই রাজ্যের মধ্যে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
পরিস্থিতির ওপর অসম ও মেঘালয় প্রশাসন ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে। যাত্রী ও চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।



