তামিলনাড়ুর কারখানায় অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক, মৃত্যু ৭, অসুস্থ ৬৭

Spread the news

২২ জুন : তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুর জেলার পেরিয়াপালিয়াম এলাকায় চিংড়ি প্রসেসিং কারখানায় অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক করে মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাত। মৃত সাতজনই পরিযায়ী মহিলা শ্রমিক। অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ৬৭ জন। রবিবার দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ওই ঘটনায় বেসরকারি প্রসেসিং ইউনিটের মালিককে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বেসরকারি ওই কারখানা কান্নাগাইপেয়ার গ্রামে। সেখানে কমবেশি ১২০ কাজ করেন। তাঁদের বেশিরভাগই মহিলা। তাঁরা অসম, ওডিশা, ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। কারখানার ভিতরেই তাঁরা থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, কারখানার যে জায়গায় চিংড়ি প্রসেসিং হয়, সেখান থেকেই অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক করে এবং কারখানার শ্রমিকদের আবাসনে সেই গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। যার ফলে আবাসনে থাকা অধিকাংশ শ্রমিকই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের প্রবল শ্বাসকষ্ট হতে থাকে।

তিরুভাল্লুরের জেলাশাসক এস কবিতা জানিয়েছেন, অসুস্থ হয়ে পড়া ৬৭ জন শ্রমিকদের মধ্যে ৪৬ জনকে বেসরকারি হাসপাতালে এবং ২১ জনকে ভেঙ্কটেশ্বর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। সঙ্কটজনক নয় শ্রমিককে চেন্নাইয়ের স্ট্যানলে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, অসুস্থ মহিলা শ্রমিকদের অধিকাংশই কম বয়সি। তাঁদের বয়স ২০-২৫ বছর। বিভিন্ন হাসপাতালের ভেন্টিলেশনে রয়েছেন ১১ জন শ্রমিক।

পুলিশ জানিয়েছে, ঠিক কী ভাবে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক করেছে, তা সোমবার সকালেও নিশ্চিত জানা যায়নি। তবে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে, কোনও ভালভ খারাপ হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটেছে। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় থালাপতি এই ঘটনার তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিতে রয়েছেন শিল্প নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য দপ্তর, তদামিলনাড়ুর দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ এবং জনস্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা। কমিটিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি অন্তর্বর্তিকালীন রিপোর্ট এবং তিন দিনের মধ্যে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *