বরাক তরঙ্গ, ৭ আগস্ট : বরাক উপত্যকার শ্রীভূমি জেলায় একটি জাতীয় স্তরের বিজ্ঞান ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের দাবি রাজ্যসভায় উত্থাপন করেছেন সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ। বৃহস্পতিবার সংসদের অধিবেশনে তিনি বিষয়টি তুলে ধরে শ্রীভূমিতে এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ বলেন, দক্ষিণ আসামের বরাক উপত্যকার শ্রীভূমি অঞ্চল সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য, বৈচিত্র্যময় বাস্তুতন্ত্র এবং বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকারী। পরিবেশ বিজ্ঞান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, টেকসই কৃষি, জলবায়ু সহনশীলতা, নবায়নযোগ্য শক্তি ও জৈবপ্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য এই অঞ্চলে যথেষ্ট সম্ভাবনা ও মানবসম্পদ রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, এত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও শ্রীভূমি তথা বরাক উপত্যকায় জাতীয় পর্যায়ের কোনো শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান নেই। ফলে বহু মেধাবী ছাত্রছাত্রী ও তরুণ গবেষককে উচ্চতর গবেষণার সুযোগের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেতে হচ্ছে।
কণাদ পুরকায়স্থের মতে, শ্রীভূমিতে একটি বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হলে তা এই অঞ্চলের বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনাকে বিকশিত করবে, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করবে, দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে সহযোগিতামূলক গবেষণার সুযোগ বাড়াবে। পাশাপাশি, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন ও পরিবেশগত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণাভিত্তিক কার্যকর সমাধান বের করতেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে এমন একটি প্রতিষ্ঠান ভারতের বৈজ্ঞানিক পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। একই সঙ্গে বরাক উপত্যকার তরুণ প্রজন্ম বিশ্বমানের গবেষণার সুযোগ পাবে এবং বিজ্ঞানচর্চায় আরও বেশি উৎসাহিত হবে।
এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর কাছে শ্রীভূমিতে একটি বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) শুরু করার উদ্যোগ নেওয়ার আবেদন জানান রাজ্যসভার সাংসদ। তাঁর দাবি, বিজ্ঞান, উদ্ভাবন এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের স্বার্থে এই উদ্যোগ একটি যুগান্তকারী বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হবে।



