বরাক তরঙ্গ, ৯ আগস্ট : গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ও রেহাই পাচ্ছে না দখলদারদের হাত থেকে—এমনই অভিযোগ উঠেছে রংপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি রংপুর গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ের টিনের ছাউনি খুলে নেওয়ার পাশাপাশি কার্যালয়ের ক্ষতিসাধন করে সরকারি জমি জবরদখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন জিপি সভানেত্রী জরিনা বেগম লস্কর। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রংপুর পুলিশ পেট্রোল পোস্টে একটি এজাহার দায়ের করেন তিনি।
এজাহারে জিপি সভানেত্রী উল্লেখ করেন, রংপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নিজস্ব কোনও কার্যালয় না থাকায় ভূবাসন বিভাগের কাছাড় সার্কলের পক্ষ থেকে জিপি অফিস নির্মাণের জন্য রংপুর দ্বিতীয় খণ্ডে ১০ কাঠা সরকারি খাস জমি বরাদ্দ করা হয়। এ সংক্রান্ত নথিও গত ৩ ফেব্রুয়ারি শিলচরের সহকারী ভূবাসন আধিকারিকের কার্যালয় থেকে তাঁকে প্রদান করা হয়।
এরপর মধুরাপুল তেমাথার সংলগ্ন ওই জমিতে গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় নির্মাণ করা হয় এবং সেখান থেকেই নিয়মিত জিপির যাবতীয় কাজকর্ম পরিচালিত হয়ে আসছে। অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে একটি চক্র ওই জিপি কার্যালয়কে কেন্দ্র করে নানা ধরনের ঝামেলা সৃষ্টি করছে। এমনকি জিপি সভানেত্রীকে হুমকি-ধমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
জরিনা বেগম লস্করের দাবি, গত ৫ আগস্ট সকাল ৯টা নাগাদ তিনি খবর পান যে কয়েকজন ব্যক্তি অনধিকার প্রবেশ করে জিপি কার্যালয়ের টিনের ছাউনি খুলে নিয়ে গিয়েছেন। একইসঙ্গে ওই জায়গায় নতুন করে ঘর নির্মাণের কাজও শুরু করা হয়েছে। জিপি কার্যালয়ের ক্ষতিসাধন করে সরকারি জমি বেআইনিভাবে দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
ঘটনার পর জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন জিপি সভানেত্রী।
উল্লেখ্য, স্থানীয় গ্রামবাসীদের আর্থিক সহযোগিতায় নির্মিত হয়েছিল রংপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ওই কার্যালয়। দীর্ঘদিন নানা দুর্ভোগের পর কার্যালয়টি নির্মিত হওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেয়েছিলেন। এর আগে নিজস্ব অফিস না থাকায় বিভিন্ন সরকারি ও পঞ্চায়েত সংক্রান্ত কাজের জন্য জিপি সভানেত্রী কিংবা সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো।



