কাছাড়ে নৃশংস শিশু হত্যাকাণ্ডে রায়, মা আজমিরার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৪ এপ্রিল : কাছাড় জেলার কচুদরম থানার বাউরিকান্দি প্রথম খণ্ডে সংঘটিত বহুল আলোচিত শিশু হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হলেন জন্মদাত্রী মা আজমিরা বেগম লস্কর (২৪)। ২০২৩ সালের ১ সেপ্টেম্বরের এই হৃদয়বিদারক ঘটনার রায়ে বৃহস্পতিবার জেলার অতিরিক্ত সেশন বিচারক (ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট) বঙ্কিম শর্মা আজমিরাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার তথ্যানুসারে, আজমিরা তার দুই কন্যা—৩ বছর বয়সি রাজিমা বেগম ও ১০ মাস বয়সি ফাতিমা বেগমকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

মৃত শিশুদের বাবা বেবুল হক লস্কর কচুদরম থানায় দায়ের করা অভিযোগে জানান, পুত্রসন্তানের আশায় তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন আজমিরাকে। তবে তাদের সংসারেও দুই কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। দুই স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে একই বাড়িতে বসবাস করতেন তিনি। ঘটনার আগে দাম্পত্য কলহের জেরে আজমিরা বাবার বাড়ি চলে যান, পরে প্রায় ১৫ দিন আগে তাকে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার আগের রাতে দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে একটি ঘরে ঘুমিয়েছিলেন আজমিরা। পরদিন সকালে বেবুল ঘরে গিয়ে দেখেন, দুই শিশু অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং তাদের কাপড় ভেজা। পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হলে চিৎকার শুরু করেন তিনি। প্রতিবেশীরা ছুটে এলে জিজ্ঞাসাবাদে আজমিরা নিজেই হত্যার কথা স্বীকার করেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে দুই কন্যাকে বাড়ির সামনে থাকা পুকুরে নিয়ে গিয়ে ওড়না দিয়ে বেঁধে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করেন তিনি। পরে তাদের দেহ ঘরে এনে রেখে দেন।
ঘটনার পর পুলিশ আজমিরাকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শুনানি শেষে আদালত এই রায় ঘোষণা করে। এই মামলায় সরকার পক্ষের আইনজীবী ছিলেন প্রদীপকুমার পাটোয়া এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন টি বৈদ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *