বরাক তরঙ্গ, ১৬ জুন : কাটিগড়ার কিন্নরখাল সীমান্ত এলাকা থেকে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের হাতে অপহৃত ভারতীয় কৃষক রঞ্জিত দাস অবশেষে দেশে ফিরেছেন। দীর্ঘ প্রায় আট ঘণ্টার উৎকণ্ঠা ও অপেক্ষার পর মঙ্গলবার রাত প্রায় ৯টা ১৫ মিনিটে তাঁকে অক্ষত অবস্থায় বিএসএফের হাতে তুলে দেয় বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)। এক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ভারতে ফিরে আসার পর রঞ্জিত দাসকে প্রথমে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে শিলচরে আনা হয়।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ সীমান্তবর্তী এলাকায় কৃষিকাজে ব্যস্ত ছিলেন রঞ্জিত দাস। সেই সময় সুরমা নদী পেরিয়ে নৌকাযোগে ছয়জন বাংলাদেশি দুষ্কৃতী হঠাৎ করে রঞ্জিত দাসসহ কয়েকজন ভারতীয় কৃষকের ওপর হামলা চালায়। উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে অন্যরা পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও প্রায় ৬০ বছর বয়সি রঞ্জিত দাসকে জোরপূর্বক অপহরণ করে সীমান্তের ওপারে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।
ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় ছুটে আসেন বিএসএফ জওয়ানরা। তবে ততক্ষণে অপহরণকারীরা নৌকাযোগে বাংলাদেশে পালিয়ে যায়। পরে বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে দফায় দফায় ফ্ল্যাগ মিটিং অনুষ্ঠিত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনও সমাধান মেলেনি। বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর নড়েচড়ে বসে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী অপহৃত রঞ্জিত দাসকে ফেরত দিতে সম্মত হয়।
এদিকে, ভারতীয় নাগরিক অপহরণের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে সীমান্ত এলাকায়। রঞ্জিত দাসকে নিরাপদে ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঘটনাস্থলে পৌঁছান কাছাড়ের পুলিশ সুপার সঞ্জীব শইকিয়া, বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ ও জাকারিয়া আহমদ, পাশাপাশি শিলচরের সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য। প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত অপহৃত কৃষককে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।



