দিলোয়ার বড়ভূইয়া, কাবুগঞ্জ।
বরাক তরঙ্গ, ৩১ আগস্ট : স্বাধীনতার ৮০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও মৌলিক নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত ধলাই বিধানসভা এলাকার জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দারা। ধলাই সমজেলা কার্যালয় থেকে মাত্র প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রামে আজও নেই চলাচলের উপযোগী স্থায়ী সড়ক। পাশাপাশি রয়েছে বিশুদ্ধ পানীয় জলের তীব্র সংকট।
জীবনগ্রাম ও ভুবনডর জিপির দুটি অংশ নিয়ে গড়ে ওঠা জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা ও পানীয় জলের সমস্যার কথা জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে জানানো হলেও স্থায়ী কোনও সমাধান হয়নি। একাধিকবার প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে উন্নয়নের কাজ কার্যকর হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।
বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। গ্রামের কাঁচা ও ভাঙাচোরা রাস্তায় গাড়ি চলাচল তো দূরের কথা, অনেক সময় বাইক ও স্কুটিও প্রবেশ করতে পারে না। এর ফলে জরুরি পরিষেবা পেতেও চরম সমস্যায় পড়তে হয় গ্রামবাসীদের। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী মহিলাদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে দুর্ভোগের শেষ থাকে না।
স্থানীয়দের দাবি, অনেক সময় চেংড়া দোলায় করে রোগী বা গর্ভবতী মহিলাকে গ্রামের বাইরে মূল সড়ক পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়। এরপর গাড়ির মাধ্যমে হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব হয়। গ্রামবাসী আরও জানান, পুনিখাল নদীর উপর প্রায় দুই দশক আগে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে কালভার্টটির অবস্থাও অত্যন্ত জরাজীর্ণ। বর্ষাকালে এর ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা বিশাল নাথ ও দিবাকর গোয়ালারা জানান, প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্তমান সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য, প্রাক্তন বিধায়ক নীহাররঞ্জন দাস এবং বর্তমান বিধায়ক অমিয়কান্তি দাসের কাছে একাধিকবার সমস্যাগুলি তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে গ্রামবাসীদের মধ্যে।
এদিকে, দীর্ঘদিনেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় রবিবার নিজেদের উদ্যোগে শ্রমদান করে রাস্তার একটি অংশ মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের বক্তব্য, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও যখন সমস্যার সমাধান হচ্ছে না, তখন বাধ্য হয়েই নিজেদের উদ্যোগে রাস্তা সংস্কারের কাজে নামতে হয়েছে।
গ্রামবাসীদের দাবি, অবিলম্বে জগন্নাথপুরে একটি স্থায়ী সড়ক নির্মাণ, পুনিখাল নদীর উপর থাকা কালভার্টটি সংস্কার অথবা নতুন করে নির্মাণ এবং পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে হবে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর গণআন্দোলনে নামারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
রবিবারের শ্রমদানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গ্রুপের সদস্য দিবাকর গোয়ালা, বিশাল নাথ, দিলীপ রিকিয়াসন, দিগেন রায়, অশোক রায়, রূপক রায়, কৃষ্ণ নাথসহ অন্যান্য গ্রামবাসী।



