
১৫ অক্টোবর : বলিউড অভিনেতা-পরিচালক আমির খানের ভাগ্নে ইমরান খানকে অবিলম্বে ভারত ছেড়ে চলে যাওয়ার নোটিস। আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ‘দিল্লি বেলি’ অভিনেতাকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য নোটিস পাঠিয়েছে মুম্বই পুলিশ। গত ১০ অক্টোবর মুম্বইয়ের অগস্ট ক্রান্তি ময়দানে CEC-র পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন ইমরান। CJP-এর সমর্থনে এই বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার পরেই এই পদক্ষেপ বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
গত ১০ অক্টোবর মুম্বইয়ের অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এক প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবির পাশাপাশি ভোটার তালিকার এসআইআর প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা। আর ওই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন ইমরান খান। পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিনেত্রী লেখা ওয়াশিংটন এবং তাঁর তুতো বোন জাইন মারি খানও। বিক্ষোভ চলাকালীন তিনজনকেই আটক করেছিল মুম্বই পুলিশ।
এর আগে বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ কিরিট সোমাইয়া ইমরান খানের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর দাবি, ইমরান মার্কিন নাগরিক। অভিনেতার নাগরিকত্বের বিষয়টি যাচাই করার জন্য মুম্বই পুলিশের কাছে আবেদন জানান তিনি। পাশাপাশি কোনো বিদেশি নাগরিক রাজনৈতিক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন কী না তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সোমাইয়া। সমাজ মাধ্যমে একটি পোস্টে ইমরানকে অবিলম্বে বহিষ্কারের দাবি জানান এই বিজেপি নেতা।

অন্যদিকে, প্রতিবাদে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইমরান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, মুম্বইয়ের বাসিন্দা হিসেবেই সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। তাঁর দাবি শহরের একজন বাসিন্দা হিসেবে নিজের মত প্রকাশ করতে এবং মানুষের কণ্ঠরোধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নয়, ব্যক্তিগত অবস্থান থেকেই এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন অভিনেতা। পাশাপাশি আটক হওয়ার পর পুলিশের গাড়ির ভিতর থেকে একটি ছবিও সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন ইমরান। ছবির সঙ্গে মজার ছলে লিখেছিলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে কোথাও গাড়ি নিয়ে ঘুরতে যাচ্ছি।’ সাম্প্রতিক এই ঘটনা অবশ্য প্রথম নয়। এর আগেও প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন অভিনেতা। আগেও বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজের মত প্রকাশ করেছেন ইমরান। চলতি বছরের জুলাই মাসে নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন অভিনেতা। দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জের খবর সামনে আসার পর, সরব হয়েছিলেন ইমরান। সব মিলিয়ে, প্রতিবাদে অংশগ্রহণ, নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন এবং দেশ ছাড়ার নোটিশের দাবি এই তিন বিষয়কে কেন্দ্র করে ইমরান খানকে ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।



