৯ মে : কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে শুক্রবার তৈরি হয় এক ঐতিহাসিক ও আবেগঘন পরিবেশ। সেই অনুষ্ঠানের মঞ্চেই এক প্রবীণ নেতার পা ছুঁয়ে প্রণাম করতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই দৃশ্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জোর চর্চা।
পরে জানা যায়, যাঁকে সম্মান জানিয়ে প্রণাম করেছেন প্রধানমন্ত্রী, তিনি হলেন মাখনলাল সরকার। ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বিজেপির প্রাচীন দিনের অন্যতম সংগঠক হিসেবে পরিচিত এই নবতিপর নেতা।
রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মঞ্চ থেকে জানান, ১৯৫২ সালের কাশ্মীর আন্দোলনের সময় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মাখনলাল সরকার। বিজেপির দাবি, কাশ্মীরে তেরঙ্গা উত্তোলনের ঐতিহাসিক অভিযানের সময়ও তিনি শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গী ছিলেন। পরবর্তীতে কাশ্মীরের জেলে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যু হলে সেই সময়ও তাঁর পাশে ছিলেন মাখনলাল।
শিলিগুড়ির বাসিন্দা মাখনলাল সরকার দীর্ঘদিন উত্তরবঙ্গে বিজেপির সংগঠন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮০ সালে বিজেপি গঠনের পর পশ্চিম দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং অঞ্চলের সাংগঠনিক দায়িত্ব তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়। দলীয় সূত্রের দাবি, অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি উত্তরবঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক ভিত শক্তিশালী করে তোলেন। পরে তিনি শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার প্রথম বিজেপি সভাপতি হন এবং টানা সাত বছর সেই দায়িত্ব পালন করেন।
শমীক ভট্টাচার্য আরও জানান, কংগ্রেস আমলে দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার অভিযোগে একবার দিল্লি পুলিশ মাখনলাল সরকারকে গ্রেপ্তার করেছিল। আদালতে বিচারক তাঁকে ক্ষমা চাইতে বললেও তিনি তা অস্বীকার করেন এবং আদালতেই ফের গান গেয়ে শোনান। পরে বিচারক তাঁর সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে সম্মান জানিয়ে প্রথম শ্রেণির ট্রেনের টিকিট ও ১০০ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবারই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শ ও অবদানের কথা উল্লেখ করেছেন। বিজেপির দাবি, বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। সেই আবহেই শপথ মঞ্চে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা মাখনলাল সরকারকে সম্মান জানিয়ে আবেগঘন বার্তা দিল গেরুয়া শিবির।



