ধলাইয়ের পানিসাগর নালার পাড়ে পা বাঁধা অবস্থায় মহিলার দেহ উদ্ধার,  চাঞ্চল্য

Spread the news

রাজীব মজুমদার, ধলাই।
বরাক তরঙ্গ, ৪ নভেম্বর : ধলাই থানা এলাকার সপ্তগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম সপ্তগ্রামে পানিসাগর নালার পাড় থেকে পা বাঁধা অবস্থায় এক মহিলার মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার রাতে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় শোক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মহিলাকে খুন করে নির্জন নালার পাড়ে ফেলে রাখা হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন স্থানীয়দের একাংশ। যদিও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

মৃত মহিলার নাম রোস্তানা বেগম বড়ভূইয়া (৩০)। তিনি পশ্চিম সপ্তগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা কালা রাজা বড়ভূইয়ার মেয়ে। তাঁর দশ বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। প্রায় আট বছর আগে স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর দুই বছরের সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি। এরপর থেকে বিভিন্ন বাড়ি ও ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করে নিজের ও সন্তানের ভরণপোষণ চালিয়ে আসছিলেন।

জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় কাজ থেকে বাড়ি ফিরে ছেলেকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন রোস্তানা। বাড়ির পাশেই তখন চলছিল নৈশ ফুটবল প্রতিযোগিতা। ছেলে সেখানে থাকতে পারে, এই ধারণায় তাঁকে খুঁজতে মাঠের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যান তিনি। রাত আটটা নাগাদ ছেলেটি বাড়িতে ফিরে এলেও মায়ের আর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এরপর পরিবারের সদস্যরা তাঁর খোঁজে বের হন। ফুটবল প্রতিযোগিতার মাঠ থেকে বাড়ি ফেরার পথে পানিসাগর নালার পাড়ে রোস্তানার কাপড়ের ছেঁড়া অংশ দেখতে পান তাঁরা। পরে স্থানীয় বাসিন্দারাও তল্লাশিতে যোগ দেন। বিভিন্ন জায়গায় কাপড়ের ছেঁড়া অংশ দেখতে পাওয়ার পর একপর্যায়ে নালার পাড়ে পা বাঁধা অবস্থায় তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়।

খবর পেয়ে ধলাই থানার অফিসার ইনচার্জ সর্বেশ্বর কুয়র পুলিশবাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। স্থানীয়দের একাংশের ধারণা, মহিলার উপর কোনও অপরাধ সংঘটিত করার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তাঁকে হত্যা করে নির্জন স্থানে ফেলে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের তরফে এখনও কোনও চূড়ান্ত বক্তব্য জানানো হয়নি।

একটি শিশুকে নিয়ে জীবনসংগ্রামে লিপ্ত মহিলার এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে পশ্চিম সপ্তগ্রাম এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই ঘটনার পিছনে কী রহস্য রয়েছে এবং কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে পুলিশি তদন্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *