মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৫ সেপ্টেম্বর : জ্ঞান, নৈতিকতা, মানবিকতা ও মূল্যবোধের আলোয় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করে শ্রীভূমিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো ৬৫তম শিক্ষক দিবস। শ্রীভূমি জেলা শিক্ষক দিবস উদযাপন সমিতির উদ্যোগে শনিবার সকাল ১০টায় জেলা গ্রন্থাগার অডিটোরিয়ামে আয়োজিত হয় বিশেষ অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রীভূমির জেলা আয়ুক্ত প্রদীপ কুমার দ্বিবেদী। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হোজাইয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. অমলেন্দু চক্রবর্তী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ মিশন রঞ্জন দাস, দক্ষিণ করিমগঞ্জের বিধায়ক আমিনুর রশিদ চৌধুরী, শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত সপ্ততি এন্দো, সহকারী আয়ুক্ত প্রিয়াঙ্কা ইউমনাম, বিদ্যালয়সমূহের পরিদর্শক তথা জেলা শিক্ষক দিবস উদযাপন সমিতির সম্পাদক নীলম জ্যোতি দাস, উপপরিদর্শক খয়রুল ইসলাম হাজারি-সহ শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সরস্বতী বিদ্যানিকেতনের ছাত্রছাত্রীরা উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করে।
স্বাগত ভাষণে নীলম জ্যোতি দাস শিক্ষক দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, পিতা-মাতার পর শিক্ষকের স্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাক্তন সাংসদ মিশনরঞ্জন দাস শিক্ষকদের সমাজের মেরুদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেন। বিধায়ক আমিনুর রশিদ চৌধুরীও সমাজ ও দেশের ভিত মজবুত করার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অবদানের প্রশংসা করেন।
প্রধান বক্তা ড. অমলেন্দু চক্রবর্তী ড. রাধাকৃষ্ণণের জীবন ও দর্শন নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, শিক্ষা মানুষকে অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে জ্ঞানের আলোর দিকে নিয়ে যায় এবং এই কাজে শিক্ষকরা অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা আয়ুক্ত প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও মজবুত ভিত্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। অনুষ্ঠানে জেলার মোট ৪০ জন কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষককে সংবর্ধনা জানানো হয়। তাঁদের কয়েকজন শিক্ষকজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। সমাপ্তি সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।



