বরাক তরঙ্গ, ৫ সেপ্টেম্বর : বদরপুরের একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের হোস্টেল থেকে দশম শ্রেণির এক ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও তা মানতে নারাজ মৃত ছাত্রের পরিবার। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার। মৃত ছাত্রের নাম আহমদ গুলশান লস্কর (১৬)। তার বাড়ি স্বাধীনবাজারে। আব্দুল মান্নান লস্করের ছেলে। সে বদরপুরের প্যারাগন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র এবং স্কুলের হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করত। শনিবার দুপুরে হোস্টেলের নিজের ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছা দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শনিবার স্কুলের আয়োজিত অনুষ্ঠানে গুলশান যথারীতি অংশগ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতেও যোগ দেন। পরে বিদ্যালয়ের ক্যানটিনে খাবারও খান। দুপুরে হোস্টেল ইনচার্জের কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে মায়ের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি।
এরপর দুপুরের খাবারের সময় গুলশানকে ডাইনিং হলে না পেয়ে হোস্টেল ইনচার্জ তাঁর ঘরে যান। দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় জোর করে দরজা খুলে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে কর্তৃপক্ষের দাবি। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পরে পুলিশ এসে গুলশানকে উদ্ধার করে শ্রীগৌরী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীগৌরী হাসপাতালে উপস্থিত হন ডিএসপি মুকুট কাকতি। পাশাপাশি অতিরিক্ত জেলা কমিশনারও ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে, পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁদের দাবি, ঘটনাটি আত্মহত্যা হলে ছাত্রটির শরীরে তার স্পষ্ট চিহ্ন থাকার কথা। পাশাপাশি বিদ্যালয় থেকে মাত্র কিছুটা দূরে বদরপুর থানা থাকা সত্ত্বেও কেন সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় মহলেও নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, দুপুরে মোবাইলে মায়ের সঙ্গে কথা বলে। অন্যদিকে, স্থানীয়দের একাংশের দাবি, পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপের কারণেও ছাত্রটি মানসিকভাবে চাপে থাকতে পারে। তবে আরও একটি সূত্রের দাবি, ঘটনার আগে এক শিক্ষকের সঙ্গে গুলশানের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল এবং তা একসময় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। মৃত ছাত্রের পরিবারের সদস্যরাও এই বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
তাঁদের আশঙ্কা, ওই ঘটনার সঙ্গে গুলশানের মৃত্যুর কোনও যোগসূত্র থাকতে পারে। তাই তাঁরা শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন।



