বরাক তরঙ্গ, ২৬ সেপ্টেম্বর : বরাক উপত্যকায় ক্রমবর্ধমান নদীভাঙনের সমস্যা এবং এর নেপথ্যে থাকা কারণ খতিয়ে দেখতে কাছাড়ে এসেছে জার্মানির এক বিশেষজ্ঞ দল। শনিবার শিলচর শহরের তারাপুর শিববাড়ি রোডে বরাক নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা-সহ জেলার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করেন দলের সদস্যরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন পূর্ত ও জলসম্পদ বিভাগের আধিকারিকরা।
জার্মানির বার্লিনের বিশেষজ্ঞ জন সাসের নেতৃত্বে দলটি এদিন ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে। শিববাড়ি রোডে নদীভাঙনের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে জন সাস জানান, এলাকার ভূগর্ভস্থ ঢিলে মাটি ভাঙনের অন্যতম প্রধান কারণ। একইসঙ্গে বরাকের উজান অঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ও ভূমিরূপ বজায় রাখার উপর গুরুত্ব দেন তিনি। নদীর স্রোতের সঙ্গে ভেসে আসা পলিমাটি এ অঞ্চলে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর আগে শুক্রবার শিলচরে জেলা কমিশনারের কার্যালয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা। বৈঠকে নদীভাঙনের বর্তমান পরিস্থিতি, সম্ভাব্য কারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে পরিদর্শনে থাকা পূর্ত (সড়ক) বিভাগের শিলচর-উধারবন্দ আঞ্চলিক সংমণ্ডলের কার্যবাহী বাস্তুকার অনিরুদ্ধ নাগ জানান, উজান থেকে জলের সঙ্গে ভেসে আসা পলিমাটি নদীর একদিকে জমা হয়ে চর বা পলিস্তর তৈরি করছে। এর ফলে নদীর জলপ্রবাহের গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে এবং অন্য তীরে ভাঙনের প্রবণতা বাড়ছে।
তিনি বলেন, বরাক-সহ এই অঞ্চলের বিভিন্ন নদীতে পলিমাটি জমা ও ভাঙন রুখতে উজানে পাহাড় ও মাটি কাটার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। শুধু ভাঙনস্থলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই হবে না, নদীর উজান এলাকার পরিবেশ ও ভূমিরূপে পরিবর্তনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।
জানা গেছে, কাছাড়ের পর বিশেষজ্ঞ দল মিজোরাম, মণিপুর এবং ডিমা হাসাও জেলায় যাবে। বরাকের উজান এলাকার নদী ও পার্শ্ববর্তী পরিবেশ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহ করবেন তাঁরা। পরিদর্শন শেষে নদীভাঙন মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একটি রিপোর্ট পেশ করা হবে।
এছাড়াও কাছাড় জেলার বিভিন্ন জলাভূমিতে ভাঙন প্রতিরোধে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়েও বিশেষজ্ঞরা পর্যালোচনা করবেন। ফলে তাঁদের এই সফর বরাক উপত্যকার নদী ও জলাভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভবিষ্যৎ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



