বরাক তরঙ্গ, ২৬ সেপ্টেম্বর : আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগ এবং কাছাড় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে শুক্রবার বড়জালেঙ্গা পাইওনিয়ার ক্লাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একটি সচেতনতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. রত্না হুইরেম ও ড. কাথিরেসান এল.-এর সমন্বয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রায় ৫০ জন স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ, মহিলা, শিশু এবং এক জন বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি ছাড়াও বিভিন্ন ওয়ার্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিডিএমএ, কাছাড়ে প্রশিক্ষণরত সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী এবং চাঙ্গারি টিলা এলাকার প্রশিক্ষণার্থীরাও কর্মসূচির আয়োজনে সহযোগিতা করেন। আসাম সরকারের স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স এবং ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সার্ভিসেসের দল কর্মসূচিতে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করে। এলএফএম সত্যনারায়ণ দাসের নেতৃত্বে তিন সদস্যের দলটি অগ্নিনিরাপত্তা, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের ব্যবহার, ভূমিকম্প ও ভবন ধসের সময় করণীয়, আহতদের প্রাথমিক বাছাই ও রঙের সংকেত ব্যবস্থার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়।

এছাড়াও আহত ব্যক্তিকে বহনের বিভিন্ন কৌশল—দুই হাত, তিন হাত ও চার হাতের সহায়তায় বহন, স্ট্রেচারের ব্যবহার এবং স্ট্রেচার না থাকলে বাঁশের সাহায্যে আহতকে সরিয়ে নেওয়ার পদ্ধতি হাতে-কলমে দেখানো হয়। উদ্ধারকাজের সময় মাথা সুরক্ষিত রাখার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে দ্রুত ও নিরাপদে কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত এবং বিভিন্ন ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে কী করা উচিত ও কী করা উচিত নয়, সে বিষয়েও অংশগ্রহণকারীদের সচেতন করা হয়। জানানো হয় ফায়ার সার্ভিসের জরুরি নম্বর ১০১।
কর্মসূচিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। প্রশ্নোত্তর পর্বে তাঁরা এলাকার দুর্যোগ মোকাবিলার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। বিশেষ করে কাছাকাছি এলাকায় দ্রুত জরুরি পরিষেবা, বিশেষত দমকল পরিষেবা না থাকার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।



