বরাক তরঙ্গ, ১৪ মার্চ : ইছাবিলের নবনির্মিত শিবমন্দিরকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে এক আধ্যাত্মিক ও উৎসবমুখর পরিবেশ। মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী মহাভিষেক মহোৎসবকে ঘিরে এলাকাজুড়ে দেখা গেছে ভক্তদের ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা। শনিবার ভোর থেকেই শুরু হয় মহোৎসবের প্রথম দিনের কর্মসূচি। ইছাবিল গ্রাম থেকে কয়েক শতাধিক সনাতনী মহিলা ভক্ত ঐতিহ্যবাহী কলসযাত্রায় অংশ নিয়ে পদযাত্রা করে বাজারিছড়া লঙ্গাই নদীর ঘাটে পৌঁছান। সেখানে তারা শাস্ত্রবিধি অনুসারে গঙ্গা পূজা সম্পন্ন করেন এবং গঙ্গা আবাহন করে পবিত্র জল ঘটভরে সংগ্রহ করেন। পূজার্চনা শেষে ভক্তরা ভক্তিময় পরিবেশে পদব্রজে ইছাবিল শিবমন্দিরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ভক্তিমূলক সঙ্গীত, শঙ্খধ্বনি এবং “হর হর মহাদেব” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো পথ। গ্রামবাসীও রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে এই পবিত্র কলসযাত্রাকে স্বাগত জানান।
মন্দিরে পৌঁছানোর পর বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে নবনির্মিত মন্দিরে ঘট স্থাপন করা হয় এবং শাস্ত্রবিধি অনুসারে বিভিন্ন মাঙ্গলিক আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। মহাভিষেক মহোৎসব আয়োজক কমিটির এক কর্মকর্তা জানান, পাঁচ দিনব্যাপী এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের প্রথম দিন অর্থাৎ ১৪ মার্চ কলসযাত্রা শেষে ভূমিপূজন ও গ্রামদেবতার উদ্দেশ্যে ধ্বজ প্রদান করা হয়। বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে যজ্ঞ এবং সন্ধ্যায় সুদূর বৃন্দাবন থেকে আগত প্রখ্যাত কথাবাচকদের একটি দল ভাগবত ও শিবপুরাণ পাঠ করবেন, যা ভক্তদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে।

পরবর্তী দিনগুলোতেও বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, ভজন-কীর্তন ও পুরাণ পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান চলবে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই মহাভিষেক মহোৎসবের অন্তিম দিন আগামী ১৮ মার্চ পূর্ণাহুতি প্রদান করা হবে।
ভক্তদের কথা মাথায় রেখে প্রতিদিনই মন্দির প্রাঙ্গণে মহাপ্রসাদের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দূরদূরান্ত থেকে আগত ভক্তরা যাতে নির্বিঘ্নে দর্শন ও প্রসাদ গ্রহণ করতে পারেন, সে জন্য আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
এই প্রাণ প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে পুরো মন্দির চত্বর। আলোকসজ্জা, রঙিন তোরণ এবং ধর্মীয় প্রতীকে সজ্জিত মন্দির এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক পরিবেশ।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সকল সনাতনী ভক্তদের এই মহোৎসবে অংশগ্রহণ করে মন্দির দর্শন ও মহাপ্রসাদ গ্রহণের জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি মন্দিরের নবনির্মাণে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য পাথারকান্দির বিধায়ক ও মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মন্দির পরিচালন কমিটির কর্মকর্তারা। তাঁদের বক্তব্য, তাঁর আন্তরিক উদ্যোগ ও সহযোগিতার ফলেই আজ এই শিবমন্দিরটি নতুন রূপে গড়ে উঠেছে এবং এলাকাবাসী একটি সুন্দর ধর্মীয় কেন্দ্র লাভ করেছে।
এই মহাভিষেক মহোৎসবকে ঘিরে ইচাবিল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় এখন উৎসবের আবহ বিরাজ করছে। ভক্তদের বিশ্বাস, মহাদেবের আশীর্বাদে ভবিষ্যতে এই মন্দির এলাকায় ধর্মীয় ও সামাজিক ঐক্যের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।



