বরাক তরঙ্গ, ২৯ এপ্রিল : এগজিট পোল প্রকাশের প্রাকমুহূর্তে নগাঁওয়ের রাজীব ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন ধুবড়ির সাংসদ তথা সামগুড়ি কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী তাঞ্জিল হোসেনের বাবা সাংসদ রকিবুল হোসেন।
বুধবার আয়োজিত এই সাংবাদিক সম্মেলনে রকিবুল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “পরাজয়ের আশঙ্কায় হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন শেষ হওয়ার পর থেকেই এগজিট পোল শুরু হতেই তাঁর ঘনিষ্ঠ কিছু চ্যানেলের মাধ্যমে বিজেপি সরকার গঠনের প্রচার চালিয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলে আমরা ধারণা পাচ্ছি। ২০১৬ সালে আমরা ক্ষমতায় থাকাকালীন বুঝতে পারিনি যে ক্ষমতা হারাব, কিন্তু এবার হিমন্ত বিশ্ব শর্মা পরাজয়ের সম্ভাবনা টের পেয়ে নানা কূটকৌশল আঁটতে পারেন।”
তিনি আরও দাবি করেন, গৌরব গগৈয়ের নেতৃত্বে এবার আসামে কংগ্রেস সরকার গঠন প্রায় নিশ্চিত। বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “তাদের মধ্যে এখন বিভ্রান্তি ও দ্বন্দ্ব বাড়ছে। রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেওয়া বদরুদ্দিন আজমলও হিমন্ত বিশ্ব শর্মার আহ্বানে নরেন্দ্র মোদির বন্ধু আসাদুদ্দিন ওয়েইসির সহায়তায় অসমে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এমনকি যারা কখনও কংগ্রেসকে ভোট দেননি, তারাও এবারের নির্বাচনে গোপনে কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছেন। হিমন্তর ভাষা ও আচরণ ক্রমশ উশৃঙ্খল হয়ে উঠছে, যা থেকেই স্পষ্ট তাঁর সরকারের বিদায় ঘনিয়ে এসেছে।”
এদিন বিধায়ক শিবামণি বরা ও নগাঁও জেলার জোট প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়ে রকিবুল হোসেনের নেতৃত্বে কংগ্রেস প্রতিনিধিদল নিয়ম মেনে স্ট্রং রুম পরিদর্শন করে।
পরিদর্শনের পর আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে অসম প্রদেশ মহিলা কংগ্রেস সভানেত্রী মীরা বৰঠাকুৰ বলেন, “কিছু সাংবাদিক এখন সাংবাদিকতা ছেড়ে বিজেপির হয়ে কাজ করছেন। তাই এগজিট পোলকে কেউ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।”
এই সাংবাদিক সম্মেলনে আজাপার প্রার্থী রাজেন গোঁহাইসহ জেলার বিরোধী জোটের অন্যান্য প্রার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।



