ঘরে ঢুকে নাবালিকাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, বিজেপি নেতা সহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

Spread the news

কাছাড়ের পশ্চিম কাটিগড়ায় চাঞ্চল্য, অভিযোগের তদন্তে গুমড়া পুলিশ, অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার আলতাবের

শমীন্দ্র পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ১৫ সেপ্টেম্বর : মা-বাবার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে ১৭ বছর বয়সি এক নাবালিকাকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে কাছাড়ের পশ্চিম কাটিগড়ার অধীন দামছড়া (তালকরগ্রান্ট) এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনায় পশ্চিম কাটিগড়ার বিজেপি নেতা তথা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলতাব হুসেইন সহ তিনজনের বিরুদ্ধে গুমড়া পুলিশ অনুসন্ধান কেন্দ্রে এজাহার দায়ের করেছেন নাবালিকার মা হুসনা বেগম।

তবে এজাহারে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রমাণিত নয় এবং বিষয়টি পুলিশ তদন্তাধীন। অভিযুক্ত আলতাব হুসেইনও অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
এজাহারে হুসনা বেগম অভিযোগ করেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর তিনি বাড়িতে না থাকার সুযোগে তাঁর নাবালিকা কন্যাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আলতাব হুসেইন দুজন যুবককে সেখানে পাঠান। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দুই যুবক বাড়িতে প্রবেশ করে নাবালিকাকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় ধস্তাধস্তির ঘটনায় নাবালিকার পরনের পোশাক ছিঁড়ে যায় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে নাবালিকা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের আসার বিষয়টি টের পেয়ে অভিযুক্ত দুই যুবক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও এজাহারে উত্থাপিত অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

এদিকে, এজাহারে অভিযুক্ত আলতাব হুসেইন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আলতাবের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর জমিতে দীর্ঘদিন ধরে ওই মা ও মেয়ে বসবাস করে আসছেন। বর্তমানে তাঁর নিজের জমির প্রয়োজন হওয়ায় তাঁদের জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাঁর পাশাপাশি আরও দুজনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে, গুমড়া পুলিশ অনুসন্ধান কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রণব মিলি জানান, ঘটনাটির বিষয়ে এজাহার দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের মাধ্যমে এজাহারে উত্থাপিত অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে কোনও ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *