একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রধানমন্ত্রীর______
আশু চৌধুরী, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১৪ মার্চ : বরাক উপত্যকা সফরে এসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাঁচগ্রাম থেকে বরাপানি পর্যন্ত নির্মিতব্য এক্সপ্রেস হাইওয়ে প্রকল্পের শিলান্যাস করেন তিনি। পাশাপাশি শিলচরের ক্যাপিটাল পয়েন্ট থেকে রাঙ্গিরখাড়ি পর্যন্ত প্রস্তাবিত উড়ালসেতুর ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় ৩.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই উড়ালসেতু নির্মিত হলে শিলচরের যানজট অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়াও বরাক উপত্যকার প্রথম কৃষি মহাবিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে শিলচরে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি ও সাহসিকতায় সমৃদ্ধ বরাকে এলেই তাঁর এক বিশেষ অনুভূতি হয়। এই অঞ্চলের ইতিহাস, ভাষা ও সংস্কৃতি একে আলাদা পরিচয় দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বরাক শুধু অসমের সঙ্গেই নয়, সমগ্র উত্তর-পূর্ব ও পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ স্থাপন করে। কিছুক্ষণ আগেই উত্তর-পূর্ব ও বরাকের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বহু কোটি টাকার প্রকল্পের শিলান্যাস করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বরাক উপত্যকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে এবং লজিস্টিক হাব হিসেবেও বিকশিত হবে। এর ফলে এলাকার যুবসমাজের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ সময় কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ৭০ বছর ধরে কংগ্রেস উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দিল্লি থেকে দূরে রেখেছিল। কিন্তু বর্তমানে উত্তর-পূর্ব অঞ্চল “অ্যাক্ট ইস্ট” নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তাঁর দাবি, এনডিএ সরকারের আমলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দ্রুত উন্নয়ন ঘটেছে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে এই অঞ্চল।
তিনি আরও বলেন, বিজেপির “ডাবল ইঞ্জিন” সরকারের ফলে বরাক উপত্যকার উন্নয়নের গতি আরও বেড়েছে। পাঁচগ্রাম-বরাপানি হাই স্পিড করিডোরকে তিনি উত্তর-পূর্বের প্রথম উচ্চগতির করিডোর হিসেবে উল্লেখ করেন। এই করিডোরের মাধ্যমে মিজোরাম, ত্রিপুরা ও মণিপুরের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু একটি সড়ক প্রকল্প নয়, বরং উত্তর-পূর্বের মানুষের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান। বরাক উপত্যকার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে কৃষি, পর্যটন ও শিল্পক্ষেত্রে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, পিএম কিষাণ যোজনার অধীনে অসমের কৃষকরা ইতিমধ্যেই ২০ হাজার কোটিরও বেশি টাকা পেয়েছেন। পাথারকান্দিতে বরাক উপত্যকার প্রথম কৃষি বিদ্যালয়ের কাজও শীঘ্রই শুরু হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির উন্নয়নের জন্য “ভাইব্রেন্ট ভিলেজ” প্রকল্প চালু করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। চা শ্রমিকদের জমির পাট্টা দেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন সরকারকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে চা বাগান এলাকায় নতুন স্কুল খোলা হয়েছে এবং চা জনগোষ্ঠীর বহু মানুষ সরকারি চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি অসমে আইআইটি ও আইআইএমের মতো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ভাষণের শেষাংশে কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে কংগ্রেস। বিভিন্ন নির্বাচনে পরাজয়ের ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও দাবি করেন তিনি।



