বরাক তরঙ্গ, ৮ মার্চ : শিলচরে লায়ন্স ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত গণবিবাহ অনুষ্ঠানে রবিবার ১৩ জোড়া পাত্র-পাত্রীর চার হাত এক হলো। শহরের নর্মাল স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সামাজিক উৎসবের আবহে সম্পন্ন হয় বিয়ের সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান।
উধারবন্দ এলাকার কাশীপুর চা বাগানের বাসিন্দা প্রদীপ রবিদাস ও সীমা রবিদাসও এদিন অন্য ১২ জোড়া দম্পতির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পেশায় রাজমিস্ত্রি প্রদীপ এবং সীমার দীর্ঘদিনের সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক পরিণতি ঘটল এই গণবিবাহের মাধ্যমে। লাজুক মুখে তারা জানান, ছোটবেলায় স্কুলে যাওয়া-আসার পথে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গভীর সম্পর্কে পরিণত হয়। পরে পরিবারের সম্মতিতেই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
একই অনুষ্ঠানে কাশীপুর চা বাগানের বাসিন্দা প্রসেনজিৎ রিকিয়াসন ও সরসপুর চা বাগানের সংযুক্তা রিকিয়াসনের দীর্ঘদিনের প্রেমও এদিন পূর্ণতা পায়। এছাড়া নগর চা বাগানের বিকি তাঁতি ও একই এলাকার রিঙ্কি ছেত্রীও বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিকি জানান, তাদের সম্পর্কও শুরু হয়েছিল স্কুল জীবনের দিনগুলো থেকে। বর্তমানে বিকির একটি মুদির দোকান রয়েছে।

এছাড়াও এদিন গণবিবাহ অনুষ্ঠানে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন পাপ্পু কালিন্দী (নগর চা বাগান) ও বুধিনি উরাং (শিবেরবন্দ চা বাগান), সজল রী ও নন্দিতা রী (দু’জনেই কাশীপুর চা-বাগান), রামা রিকিয়াসন ও শম্পা রিকিয়াসন (দুজনেই কাশীপুর চা বাগান), অসীম আকুড়া (ছোট দুধপাতিল) ও শান্তা চাষা (ভার্নারপুর চা-বাগান), রমেশ কল (কাশীপুর চা বাগান) ও পূর্ণিমা কল (থাইলু চা-বাগান), জহরলাল রবিদাস (বড়সাঙ্গন) ও মমতা রবিদাস (রাঙ্গিরউরা, শিলচর), বিপন মুড়া (নগর চা-বাগান) ও প্রিয়াঙ্কা বড়াইক (বিশ্বনাথ জেলার বিহালি), সুদিন রিকিয়াসন (কাশীপুর চা-বাগান) ও সানিয়া রী (থাইলু চা-বাগান), শিবু বাকতি (আইরংমারা) ও পায়েল বাকতি (কাঁঠাল চা বাগান) এবং কালিপদ মুকুল পানিকা (কুম্ভা চা বাগান) ও নিশা পানিকা (লঙ্গাই চা বাগান)।

গণবিবাহ উপলক্ষে ছিল ভুরিভোজ, নৃত্য-গীতসহ নানা আয়োজন। বিয়েবাড়ির আবহ সৃষ্টি করতে ক্লাবের পক্ষ থেকে কোনো খামতি রাখা হয়নি।
ক্লাবের গণবিবাহ প্রকল্পের চেয়ারম্যান অংশুকুমার রায় জানান, গণবিবাহ শুধু একটি সামাজিক অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি মানবিক উদ্যোগ। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সহায়তায় প্রতি বছর এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। ২০০৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের এবার ছিল ২২তম আসর, যেখানে ১৩ জোড়া পাত্র-পাত্রীর বিবাহ সম্পন্ন হয়।



