২৮ ফেব্রুয়ারি : দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে পাকিস্তান। দেশটির সামরিক মুখপাত্র আহমেদ শরিফ চৌধুরি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতভর আফগানিস্তানের ২২টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এই অভিযানে অন্তত ২৭৪ জন তালেবান কর্মকর্তা ও যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ।
পাক সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, বিমান হামলায় ২৭৪ জন নিহতের পাশাপাশি ৪০০-র বেশি তালেবান যোদ্ধা আহত হয়েছে। এছাড়া ৮৩টি তালেবান ফাঁড়ি ধ্বংস এবং ১৭টি ফাঁড়ি দখল করার দাবি করেছে তারা। অন্যদিকে, এই লড়াইয়ে পাকিস্তানের ১২ জন সেনা নিহত ও ২৭ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ভিন্ন। তাদের মতে, ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন বন্দি রয়েছে। বিপরীতে আফগান পক্ষে মাত্র ৮ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে কাবুল।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো আগ্রাসী পরিকল্পনা গুঁড়িয়ে দিতে তার বাহিনী প্রস্তুত। তালেবানকে দমনে সেনাবাহিনী পূর্ণ সক্ষমতা রাখছে বলেও জানান তিনি। যদিও উভয় পক্ষের হতাহতের এই সংখ্যা নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
এ দিকে, আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সরকারি মুখপাত্রের দেওয়া তথ্যমতে, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। হামলাস্থলগুলোর মধ্যে নওশেরা ও অ্যাবোটাবাদসহ পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনা ছিল বলে কাবুলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তারা একে পাকিস্তানের আগের রাতভর চালানো বিমান হামলার ‘সফল প্রতিশোধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

দুই প্রতিবেশীর এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘসহ বিশ্বশক্তিগুলো। রাশিয়া, চীন এবং ইরান অবিলম্বে দুই পক্ষকে যুদ্ধবিরতি পালনের আহ্বান জানিয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানও উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন।



