বরাক তরঙ্গ, ২৫ ফেব্রুয়ারি : মিজোরামে সরকারি কর্মীদের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে (প্রক্সি) কাজে নিয়োগ করার অভিযোগে এ পর্যন্ত মোট ৩৭ জন সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৯ জনের চাকরি ইতিমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাজ্য বিধানসভায় এই তথ্য জানিয়েছেন রাজ্যের কর্মীবিভাগ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের মন্ত্রী কে সাপডাঙ্গা।
প্রশ্নোত্তর পর্বে অতিরিক্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বাকি ৮ জন কর্মীর বিরুদ্ধে লঘু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাদের বার্ষিক গোপনীয় রিপোর্টে (ACR) তা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য ভবিষ্যতে তাদের চাকরিজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।
মন্ত্রী আরও জানান, সরকারি কর্মীরা এখনও প্রক্সি ব্যবহার করছেন কি না, তা নজরদারির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিভাগের সচিব, বিভাগীয় প্রধান এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের উপর ন্যস্ত রয়েছে।
২০২৩ সালের শেষ দিকে ক্ষমতায় আসার পর জোরাম পিপলস মুভমেন্ট (ZPM) সরকার এই প্রক্সি নিয়োগ প্রথা বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। এরপর ২০২৪ সালের ১৯ জুন কর্মীবিভাগ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তর একটি নির্দেশিকা জারি করে সরকারি কর্মীদের প্রক্সি নিয়োগ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ৪৪টি বিভাগের মোট ৩,৩৬৫ জন কর্মী প্রক্সি ব্যবহার করছিলেন। এর মধ্যে ২,০৭০ জন স্বাস্থ্যজনিত কারণ, ৭০৩ জন পারিবারিক সমস্যা এবং ৩৫০ জন ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েছেন।
উদ্বেগজনক বিষয় হল, ৯ জন প্রক্সি সংশ্লিষ্ট কর্মীর মৃত্যুর পরেও তাদের পরিবর্তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এছাড়া দেখা গেছে, বড় বড় চার্চ সংগঠন— যেমন প্রেসবিটারিয়ান চার্চ, ব্যাপটিস্ট চার্চ এবং ইউনাইটেড পেন্টেকোস্টাল চার্চ (UPC)— এর নিয়ম অনুযায়ী পাদরিদের স্ত্রীদের সরকারি চাকরি নিষিদ্ধ থাকায়, স্কুল শিক্ষা বিভাগ ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে কর্মরত মোট ৬ জন পাদরির স্ত্রী প্রক্সি নিয়োগ করেছিলেন।



