রামকৃষ্ণনগরে উদ্ধার সোনার বিস্কুট, আটক মিজোরামের মহিলা সহ ব্যক্তি

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৮ মে : শ্রীভূমি জেলার রামকৃষ্ণনগরে পুলিশের তৎপরতায় ফের সামনে এল আন্তঃরাজ্য চোরাচালান চক্রের সম্ভাব্য যোগসূত্র। গোপন সূত্রের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল মূল্যের দুইটি সোনার বিস্কুট উদ্ধার করেছে রামকৃষ্ণনগর থানার পুলিশ। ঘটনায় মিজোরামের দুই বাসিন্দাকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সোনার মোট ওজন প্রায় ২২০ গ্রাম বলে জানিয়েছে পুলিশ। বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ টাকা হতে পারে বলে অনুমান।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ সোনা পাচার চক্র সক্রিয় থাকার খবর পাচ্ছিল গোয়েন্দা বিভাগ। সেই তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার গোপনে নজরদারি শুরু করে রামকৃষ্ণনগর থানার পুলিশ। পরে নির্দিষ্ট সূত্র ধরে কালাছড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।

অভিযান চলাকালীন একটি রয়্যাল এনফিল্ড বুলেট মোটরসাইকেলে আসা দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করে তল্লাশি চালায় পুলিশ। প্রথমে তারা স্বাভাবিক আচরণ করার চেষ্টা করলেও জিজ্ঞাসাবাদের সময় অসংলগ্ন বক্তব্য দিতে শুরু করে। পরে বিস্তারিত তল্লাশিতে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় দুইটি সোনার বিস্কুট।

ধৃতদের পরিচয় জেহওয়া লালমূনপূজা এবং রেবেকালাল রিনোমিতে বলে জানা গেছে। তারা মিজোরামের বাসিন্দা। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে একটি সংগঠিত চোরাচালান চক্রের মাধ্যমে সোনা পাচারের চেষ্টা চলছিল। এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাস্থল থেকেই ব্যবহৃত রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেলটি (নম্বর AS-11-AF-9318) বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সোনা, আটক দুই ব্যক্তি এবং মোটরসাইকেলকে পরবর্তী তদন্তের জন্য কাস্টমস বিভাগের হাতে তুলে দিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের এই অভিযানের পর সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে আন্তঃরাজ্য যোগাযোগপথ এবং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, সীমান্তবর্তী অঞ্চল হওয়ায় মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানের ঘটনা সামনে আসে। তবে পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে বড় ধরনের পাচারচক্রের রহস্য উদ্ঘাটনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

রামকৃষ্ণনগর থানার পুলিশের এই সফল অভিযানের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষও। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ পাচার ও আন্তঃরাজ্য অপরাধ দমনে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *