নির্বাচন কমিশন ও ভোটাধিকার : কিছু জরুরী প্রশ্ন

Spread the news

।। প্রদীপ দত্তরায় ।।
(লেখক ছাত্র সংগঠন আকসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও গৌহাটি হাইকোর্টের আইনজীবী)
পর্ব -১
২৭ অক্টোবর : ইদানিং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল রাজধানী দিল্লি সহ সারা দেশ। এর পক্ষে বিপক্ষে বহুবিধ যুক্তিতর্ক উত্থাপিত হচ্ছে। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে  নির্বাচন কমিশন দ্বারা গৃহীত সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ,যা নিয়ে পর্যালোচনা অবশ্যই জরুরী।

প্রকৃতপক্ষে নির্বাচন কমিশন নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠছে তা বহুবিধ। একে বিষয়টি জটিল,তাতে আবার অধিকাংশ তথ্যই উপলব্ধ নয়।

তবে রাজনৈতিক তরজা বাদ দিলেও যে বিষয়গুলো স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে:

১. রক্ষাকবচ সংক্রান্ত আইন:
২০২৬ সালের মুখ্য ইলেকশন কমিশনার অ্যান্ড আদার ইলেকশন কমিশনারস অ্যাক্ট, ২০২৬-এর সেকশন ১৬ এতে বলা হয়েছে যে, কোনও বর্তমান বা প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনারের কোনও কাজের জন্য কোনও আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও সিভিল বা ক্রিমিনাল কেস শুনবে না। বিরোধীদের অভিযোগ যে এই ধারা প্রথম ড্রাফটে ছিলনা, পরে সংযোজন করে এবং অধিকাংশ বিরোধী সাংসদদের অনুপস্থিতিতে বিতর্ক ছাড়াই পাস করা হয়েছে।‌ এই ধরনের রক্ষাকবচ দেশের কোন প্রতিষ্ঠানের মুখ্য আধিকারিক এমনকি রাষ্ট্রপতি কাউকে আজ অব্দি দেওয়া হয়নি। এই বিল পাস করানোর প্রয়োজন কি ছিল এবং এটা কতটা সাংবিধানিক? এনিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে এবং কোর্ট সরকার সহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে এর যৌক্তিকতা জানতে ইতিমধ্যে নোটিশ পাঠিয়েছেন।

২.  নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ:
এই বিষয়ে অবশ্যই শুধু শাসক দলকে দোষ দেওয়া যাবেনা। কারন ২০২৩ সালের আগে অব্দি নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সরকারের পছন্দ অনুযায়ীই হত। সরকার পছন্দ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কারুর নাম প্রস্তাব করতেন, রাষ্ট্রপতি তাঁতে সম্মতি জানাতেন,কারণ পার্লামেন্টে এই সংক্রান্ত কোন আইন পাস হয়নি। ২০২৩ সালে একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট একটি অন্তর্বর্তী আদেশ দেয় যাতে তিন সদস্যের একটি প্যানেল বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী, সুপ্রিম কোর্টের মুখ্য বিচারপতি ও বিরোধী দলনেতা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন – বলে নির্দেশ দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য অবশ্যই শাসক এবং বিরোধী দলের নেতার সিদ্ধান্ত নির্নয়ে সম অধিকার নিশ্চিত করে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং বলা হয় এই ব্যাবস্থা ততদিন চলবে যতদিন এই নিয়ে পার্লামেন্ট আইন তৈরি নাহয়। পরবর্তীতে বিজেপি সরকার এই বিষয়ে আইন পাস করে যাতে উক্ত প্যানেলে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর মনোনীত কোন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেতাকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব পাস হয়। এতে অবশ্যই নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে ভোটের হিসেবে সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে,এমনটাই ধরে নেওয়া যায়। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা ভঙ্গ হচ্ছে বলে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এনিয়েও সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে।

৩. এসআইআর‌‌‌ প্রসঙ্গ:
সিদ্ধান্ত: জুন,২০২৫ শে বিহার ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন করা হবে বলে প্রথম নির্বাচন কমিশনের তরফে নোটিশ জারি করা হয়। এতে সাক্ষর করেন নির্বাচন কমিশনের সেক্রেটারি পবন ধাওয়ান। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট এই প্রক্রিয়াকে মান্যতা দেয়।নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্রে বলা হয় যে এই সিদ্ধান্ত তিনজন নির্বাচন কমিশনারের সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছিল। কিন্তু ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে যে এতে কমিশনার সুখবির সিং সান্ধু একটি সতর্কতামূলক টীকা ( নোট) লিখিত ভাবে পেশ করেছিলেন যাতে তিনি বলেছিলেন যে এই প্রক্রিয়ায় বৃদ্ধ, গ্রামীণ ও অশিক্ষিত ভোটাররা যাতে সমস্যায় না পড়েন তা বিশেষভাবে খেয়াল রাখা খুব জরুরী। এই সিদ্ধান্ত গ্রহনে কবে যৌথ বৈঠক হয়েছিল,সান্ধুর নোটকে তাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল কিনা, বৈঠকের কার্যবিবরণী লিপিবদ্ধ হয়েছিল কিনা,এসব নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনো কোন স্পষ্ঠীকরণ পাওয়া যায়নি। ফলে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে ,যা নিরশন করা কমিশনের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

৪. বিহার এসআইআর‌‌‌:
সংশোধনের আগে বিহার তালিকায় ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭.৮৬ কোটি। প্রথম তালিকায় বাদ পড়েন ৬৫ লক্ষ। পরে নিরীক্ষার মাধ্যমে আরো ৩.২২ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়। অভিযোগ যে পরের এদের অধিকাংশই এই নিয়ে কোন আগাম নোটিশ পাননি। ফর্ম ৬ এর মাধ্যমে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত হন প্রায় ২২ লাখ। সব মিলিয়ে পুর্বতন তালিকা থেকে বাদ পড়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭.৫০ লাখ।
এটা অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে তাদের মধ্যে অনুপস্থিত,মৃত, স্থানান্তরিত এবং নকল (একাধিক জায়গায় নাম অন্তর্ভুক্ত) ভোটার রয়েছেন।

যৌক্তিক অসঙ্গতি (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি):এই নতুন নীতি বিহার ভোটার তালিকা সংশোধনে প্রথম প্রয়োগ করা হয়। সুপ্রিমকোর্টের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এতে ১.৩৬ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। মূল কারন:

পিতার নামে অমিল।
নথিবদ্ধ পিতা-মাতার বয়সের মধ্যে অমিল।
পিতা-মাতার বয়সের মধ্যে ৫০ বছরের বেশি ব্যবধান।
ঠাকুর্দা ঠাকুমা বা নানা-নানির বয়সের মধ্যে ৪০ বছরের বেশি ব্যবধান।
ছয়জনের বেশি সন্তানের উল্লেখ থাকা নথিপত্র।

এইসব বিষয় ভোটারের বৈধতা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি করতেই পারে, কিন্তু মনে রাখতে হবে যে আগে যেসব ভোটার তালিকা আগে তৈরি হয়েছে তাতেও সংশ্লিষ্ট করণিকের ভুল, জনগণের অশিক্ষা ও অসচেতনতা থেকে এইসব ঘটতে পারে। অজিত মন্ডল পরের তালিকায় এ কে মন্ডল কিম্বা মোহাম্মদ আলী থেকে এমডি আলি এসব আকছার হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে পারিবারিক রীতিনীতি এসবেও বহুত্ব রয়েছে। ফলে এই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির গেরোয় যারা পড়েছেন, বৈধ হলেও তাঁদের অফিস থেকে অফিসে দৌড়তে হচ্ছে, অনেকেই প্রামাণ্য পুরোনো কাগজপত্র যোগাড় করতে পারছেন না। ফলে তাঁদের অপরিসীম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে এবং হচ্ছে।

আনম্যাপড ভোটার:
সোজাকথায় বিষয়টি হচ্ছে হয়তো আপনার ভোটার আই ডি রয়েছে, হয়তো আপনি পরপর নির্বাচনে ভোট দিয়ে আসছেন, কিন্তু ম্যাপড বা এবার ভোটাধিকারের যোগ্য হতে হলে ২০০২ ভোটার তালিকায় আপনার বা আপনার পুর্ব পুরুষ কারুর নাম থাকতে হবে। এখন ধরুন আপনি অন্য রাজ্যে স্থানান্তরিত হয়েছেন, হয়তো ২০০২ সালে কোন রাজ্যে তালিকা তৈরি হয়নি,কোথাও নামের বানান ভুল রয়েছে,কিম্বা নাম উঠেনি – সেক্ষেত্রে আপনার শুনানিতে উপস্থিত হয়ে অতিরিক্ত কাগজপত্র দেখিয়ে বৈধতা প্রমাণ করতে হবে। এই শ্রেনীতে যারা বাদ পড়েছেন তাঁরা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির বাইরে।
২০২৫ সালের এক নির্দেশে নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হয়েছে যে দাবি এবং আপত্তির শুনানি ছাড়া কোন ভোটারের নাম বাতিল করা হবে না। কিন্তু এই বাদ পড়া ৪৭. ৫ লক্ষের মধ্যে কতজনের এখন অব্দি শুনানি হয়েছে, কতজন চূড়ান্ত ভাবে বাদ পড়েছেন,এসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনও এমন কোন তথ্য দিয়েছেন বলে জানা নেই। ভোট কিন্তু হয়ে গেছে।

৫. প্রসঙ্গ পশ্চিমবঙ্গ ভোট :
পশ্চিমবঙ্গের ভোটের আগে ফের এস আই আর‌‌‌ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রথম তালিকায় বাদ পড়েন প্রায় ৯০ লক্ষ। তার মধ্যে আনম্যাপড ছিলেন প্রায় ৩৮ লক্ষ। ধাপে ধাপে নির্বাচন কমিশনের নিরীক্ষার  মাধ্যমে তা নেমে আসে ৬০ লক্ষে। এরপর এব্যাপারে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে সুপ্রিম কোর্ট। পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে ৭০০ জন আইনি আধিকারিককে যাচাই প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত করা হয়,যদিও ভোটের আগে মাত্র ১৬০৭ জনের আপিল নিষ্পত্তি হয়। বাকিরা ভোট দিতে পারেননি। এপ্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর মন্তব্য উল্লেখ্য। তিনি বলেছিলেন যে এইসব ভোটাররা এবার ভোট দিতে পারেননি,তাতে কি হয়েছে , আগামী নির্বাচনে আবার ভোট দেবেন। বলা বাহুল্য, এনিয়ে রাজ্য এবং জাতীয় স্তরে প্রচুর বিতর্ক হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সূত্র অনুযায়ী এইসব ট্রাইব্যুনালের পরীক্ষা নিরীক্ষার পর প্রায় ২৭ লাখ ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁরা এরপরও অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং করেছেনও। ইতিমধ্যে এঁদের ২২ লাখ অন্তর্ভুক্তির আবেদন করেছেন। তবে এদের অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে আরো ১৬ লাখ আবেদন নথিভুক্ত হয়েছে। এবং এখানেই আরেক সন্দেহের সুত্রপাত হয়েছে।  কারা ভোটারদের অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে এই ১৬ লাখ আবেদন দাখিল করেছেন তা অস্পষ্ট। কেউ বলছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক,কেউ বলছেন অতিরিক্ত নির্বাচন আধিকারিক,কেউ বলছেন নির্বাচন কমিশনের স্বয়ংক্রিয় ব্যাবস্থার মাধ্যমে এইসব আপিল জমা পড়েছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্যই কাউকে ভুয়ো ভোটার বলে সন্দেহ করলে বিরুদ্ধ আবেদন করতে পারেন, তাঁদের সেই এক্তিয়ার রয়েছে, কিন্তু মনে রাখতে হবে এখানে সংখ্যাটি এক বা দু হাজার নয় ,১৬ লক্ষ। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট অনুযায়ী কে বা কারা অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে এইসব আবেদন করেছেন – কমিশনার সান্ধু এনিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কিন্তু কোন সদুত্তর পাননি।

২২ লক্ষ অন্তর্ভুক্তির পক্ষে,১৬ লক্ষ বিপক্ষে, অর্থাৎ সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে আপিলের সংখ্যাটি ৩৮ লক্ষে গিয়ে ঠেকেছে। এইসব দাবি আপত্তির নিস্পত্তি হতে কতদিন লাগতে পারে ? ট্রাইব্যুনালের বিচারকরাই বিভ্রান্ত। কেউ বলছেন বারো বছর,কেউ বলছেন এক শতক।
প্রশ্ন হচ্ছে যতদিন এই বিষয়ে নিষ্পত্তি না হয়  ততদিন এইসব ভোটারের অবস্থান কি দাঁড়াবে ? পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী জনসভায় বলেছেন যে এরা ভারতীয় নন। যাদের আবেদন এখনো ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন তাঁদের সম্পর্কে এরকম মন্তব্য কতটা যুক্তিযুক্ত সেটা অবশ্যই ভাবার ব্যাপার। কিন্তু আশঙ্কা রয়েছে অনেক। হয়তো এরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন, রেশন, অন্নপূর্ণা যোজনা,ইন্দিরা আবাস পাবেন না। হয়তো সরকারি জল সরবরাহ কেটে দেওয়া হবে। এককথায় হয়তো এরা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পর্যবসিত হতে পারেন।

উল্লেখ্য, অসমর্থিত সূত্র অনুযায়ী এই ২৭ লক্ষের মধ্যে প্রায় ৬ লক্ষ মতুয়া সম্প্রদায়ের লোক রয়েছেন,যারা হিন্দু এবং বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে এদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সিএএ এর অধীনে এরা হয়তো নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন, কিন্তু কতজন ইতিমধ্যে নাগরিকত্ব পেয়ে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পেরেছেন তা অজ্ঞাত। আন্দাজ করা যায় যে সেই সংখ্যা খুবই নগণ্য হবে,কারণ সিএএর মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া কতটা সময়সাপেক্ষ এবং জটিল সে বলার অপেক্ষা রাখে না ।

৬. ফর্ম ৬ :
নতুন ভোটার,যারা সদ্য ভোটাধিকার পেয়েছেন তাঁদের অন্তর্ভুক্তির জন্য নির্বাচন কমিশনের এই ফর্ম ব্যাবহারের নির্দেশ রয়েছে,যাতে এতদিন ভোটারদের কিছু সাধারণ তথ্য, যেমন নাম,বয়েস, ঠিকানা ইত্যাদি,প্রামান্য নথি হিসেবে পরিচিতি ও ঠিকানার প্রমানপত্র ও লিখিত অঙ্গীকার দিতে হত। পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের সময় এই ফর্মের সাথে প্রথম একটি সংযোজনী ( annexure) জুড়ে দেওয়া হয়,যাতে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির জন্য ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় পিতা বা পুর্বজ কারুর নাম থাকার প্রমাণ নথিভুক্ত করার নিয়ম সন্নিবিষ্ট হয়।দেখা যায়,এই সংযোজনী পুরণ না করে ফর্মটি অনলাইনে জমা দেওয়া যাচ্ছে না। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট অনুযায়ী এই নিয়ে বাকি দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁরা বলেছিলেন যে, তথ্য পরিবর্তন ও সংশোধনের জন্য ব্যবহৃত ‘ফর্ম ৬’ এবং ‘ফর্ম ৮’ আইনত নির্ধারিত; এবং ‘রেজিস্ট্রেশন অফ ইলেক্টরস রুলস, ১৯৬০’ (নির্বাচক নিবন্ধন বিধি, ১৯৬০)-এ সংশোধনী না আনা পর্যন্ত এগুলোতে কোনো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। কিন্তু তারপরও এই সংযোজনী বাতিল হয়নি। এই বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে আবার নির্বাচন কমিশন বিবৃতি দিয়ে জানায় যে ফর্ম ৬ এর এই পরিবর্তন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশানুযায়ী হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে দুবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা এই বক্তব্যকে খন্ডন করেছেন। তাঁরা বলেছেন বিহার নির্বাচনের আগে এই পরিবর্তন করা হয়নি এবং এই সংযোজনী তাঁরা কখনো চোখেই দেখেননি।
(মতামত লেখকের ব্যক্তিগত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *