শমীন্দ্র পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ১৫ অক্টোবর : আসন্ন দুর্গাপূজার আনন্দ সমাজের প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিতে মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করলেন তৃতীয় লিঙ্গের মহিলারা। নিজেদের উদ্যোগে গড়ে তোলা তহবিল থেকে বৃহস্পতিবার কাটিগড়া বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত পাঁচগ্রামে প্রায় দেড় শতাধিক দরিদ্র ও অসহায় মহিলার হাতে শাড়ি তুলে দেওয়া হয়। তাঁদের এই ব্যতিক্রমী সামাজিক উদ্যোগ এলাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন কাটিগড়ার বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ। তৃতীয় লিঙ্গের মহিলাদের এই জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি তাঁদের উদ্যোগকে মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন।
এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা এবং দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ের প্রচেষ্টা। তামান্না গুরুমার পক্ষ থেকে তৃতীয় লিঙ্গের মহিলা সুনালি মাতাজি জানান, তাঁরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাঁচ কিংবা দশ টাকা করে সংগ্রহ করেন। সেই সামান্য অর্থই ধীরে ধীরে জমিয়ে একটি তহবিল গড়ে তোলা হয়েছে। আর সেই তহবিলের অর্থ কাজে লাগিয়েই বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান তাঁরা।

শুধু উৎসবের সময় বস্ত্র বিতরণেই নিজেদের সামাজিক দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখেননি তাঁরা। অসহায় পরিবারের কোনও সদস্যের বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানেও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন বলে জানান সুনালি মাতাজি ও আকাশি মেধি। তাঁদের কথায়, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগৃহীত সামান্য অর্থের মাধ্যমেই সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। দুর্গাপূজার আগে শাড়ি বিতরণের এই উদ্যোগ অসহায় মহিলাদের মুখে কিছুটা হলেও উৎসবের আনন্দ এনে দেওয়ার পাশাপাশি সমাজের প্রতি এক ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও মানুষের প্রতি সহমর্মিতা যে বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের পথ দেখাতে পারে, পাঁচগ্রামে এই উদ্যোগ যেন তারই প্রমাণ।
সমাজের মূলস্রোতে সমান মর্যাদা ও স্বীকৃতির প্রত্যাশায় থাকা তৃতীয় লিঙ্গের মহিলাদের এই মানবিক কর্মকাণ্ড প্রমাণ করল, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে পরিচয় বা আর্থিক সামর্থ্য নয়, বরং সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতাই সবচেয়ে বড় শক্তি।



