বরাক তরঙ্গ, ১০ অক্টোবর : এসআইআর-এর মাধ্যমে নাগরিকদের ভোটাধিকার হরণের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ, সকলের জন্য শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের দাবিতে গুয়াহাটিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করল অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন (এআইডিএসও)-র অসম রাজ্য কাউন্সিল। শনিবার সকাল ১১টায় কটন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে বিএসএনএল কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশদ্বারের দিকে মিছিল এগিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন সংগঠনের কর্মীরা। এ সময় এআইডিএসও-র অসম রাজ্য সম্পাদক হেমন্ত পেগু-সহ ছয়জনকে পুলিশ আটক করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীরা ‘এসআইআর-এর নামে নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা চলবে না’, ‘মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের তত্ত্বাবধানে কোনও নির্বাচন নয়’, ‘ক্যাম্পাস থেকে রাজপথ—ছাত্রী ও নারীদের নিরাপত্তা চাই’, ‘সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করা চলবে না’ এবং ‘সবার কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত করতে হবে’—সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ চলাকালে এআইডিএসও-র অসম রাজ্য সম্পাদক হেমন্ত পেগু অভিযোগ করেন, দেশে মূল্যবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের অভাবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। তাঁর দাবি, কর্পোরেট স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ফলে সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং শিক্ষিত যুবসমাজ পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে না।
পেগুর আরও অভিযোগ, জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ থেকে নজর ঘোরাতে বিজেপি সরকার সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি করছে। নির্বাচনী এলাকার পুনর্বিন্যাস এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, বিশেষ করে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ‘এসআইআর-এর অধীনে কোনও ভোট নয়’ এবং ‘জ্ঞানেশ কুমারের অধীনে কোনও ভোট নয়’ স্লোগানের মাধ্যমে দেশজুড়ে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছে সংগঠন।

এআইডিএসও-র অসম রাজ্য কাউন্সিল বিক্ষোভে পুলিশের হস্তক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে আটক ছয়জনকে অবিলম্বে নিঃশর্তে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক দেশে প্রতিবাদ করা নাগরিকদের বৈধ অধিকার। আন্দোলনকারীদের আটক করে সেই অধিকার খর্ব করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
পাশাপাশি, দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পুলিশের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও সচেতন নাগরিকদের সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এআইডিএসও।



