জামুগুড়িহাটে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৮ অক্টোবর : শোণিতপুর জেলার গ্রামীণ অর্থনীতি ও শিল্পোন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চারের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার নদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্রের জামুগুড়িহাট এলাকায় একাধিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এদিন তিনি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন ও আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। সকালে জামুগুড়িহাটের শান্তিপুরে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমগ্র গ্রামীণ উন্নয়ন যোজনা’র অধীনে নির্মিত কন্যকা মার্কেটিং কমপ্লেক্সের দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে দীঘলী চাপরিতে নির্মিত ‘অ্যালেমবাই সিরামিকস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর টাইলস উৎপাদন কারখানারও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। দীঘলী চাপরিতে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, লোহিয়া গ্রুপ ও ভামোরা গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে পূর্ব ভারতের প্রথম ‘গ্লেজড ভিট্রিফাইড’ টাইলস উৎপাদন প্রকল্প হিসেবে অ্যালেমবাই সিরামিকসের যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগে এক লক্ষ বর্গমিটার জমির ওপর গড়ে ওঠা এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কার্বি পাহাড় থেকে সংগৃহীত ‘চায়না ক্লে’ ব্যবহার করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় অসমের কৃষিজাত ও খনিজ সম্পদ রাজ্যের বাইরে চলে যেত এবং অন্য রাজ্যে সেই কাঁচামালকে কেন্দ্র করে শিল্প গড়ে উঠত। বর্তমানে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটছে। নলবাড়িতে অসমের আলু ব্যবহার করে চিপস উৎপাদনের পর এবার রাজ্যের চায়না ক্লে ব্যবহার করে দীঘলী চাপরিতে টাইলস উৎপাদন শুরু হয়েছে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অ্যালেমবাই সিরামিকস প্রকল্পে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৩২৫ জন যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি পরোক্ষভাবে এক হাজারেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। স্থানীয় যুবকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে আরও টাইলস কারখানা গড়ে তুলে দীঘলী চাপরিকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টাইলস উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কন্যকা প্রকল্প প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অসম সরকারের আর্থিক সহায়তা এবং কন্যকার উদ্যোগে ২০ হাজার লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন দুধ শীতলীকরণ ও প্রক্রিয়াকরণ প্রকল্পটি বিহারের কমফেড বা ‘সুধা’র সহযোগিতায় গড়ে তোলা হবে। এর ফলে দুগ্ধ উৎপাদকদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি অসমকে দুগ্ধ উৎপাদনে আরও স্বনির্ভর করে তোলার সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি জানান।

রাজ্যে শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে জমির সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, গত পাঁচ বছরে সরকার প্রায় দেড় লক্ষ বিঘা জমি জবরদখলমুক্ত করেছে। ধুবড়ির চাপরে উদ্ধার হওয়া চার হাজার বিঘা জমিতে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, দীঘলী চাপরির প্রায় সাত হাজার বিঘা জমির মধ্যে ২,৩১৫ বিঘা ইতিমধ্যেই শিল্প বিভাগের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আরও তিন হাজার বিঘা জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এই জমিতে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি জানান, গুয়াহাটি থেকে গহপুর, বাইহাটা চারিআলি থেকে মিশন চারিআলি এবং ধলপুর থেকে লখিমপুর হয়ে বগীবিল পর্যন্ত চার লেনের সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। পাশাপাশি শীঘ্রই গহপুর-নুমলীগড় টানেল নির্মাণের কাজও শুরু হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই যোগাযোগ পরিকাঠামোর উন্নয়নের ফলে তেজপুর, চৌকিঘাট ও নদুয়ার অঞ্চল ভবিষ্যতে অসমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে দীঘলী চাপরি ও সংলগ্ন এলাকায় শিল্পায়নের প্রসার ঘটিয়ে অঞ্চলটিকে রাজ্যের শিল্প বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনাও রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *