সৌদির নিরাপত্তায় সক্রিয় মক্কা প্রতিরক্ষা জোট, দ্রুত সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

Spread the news

৬ অক্টোবর : ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোট। সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর যেকোনও হামলা বা হুমকি মোকাবিলায় যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তিন দেশ। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সৌদি আরবে সম্মত সামরিক বাহিনী ও সামরিক সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের প্রস্তুতিও নেওয়া হবে।

সোমবার রিয়াদে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের কৌশলগত-রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির জরুরি বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সৌদি আরবের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ইয়েমেনের হুথিদের হামলা এবং মক্কা-মদিনাসহ সৌদি শহর ও বেসামরিক এবং অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে আলোচনা হয়। যৌথ বিবৃতিতে সরাসরি হুথিদের নাম উল্লেখ না করা হলেও সৌদি আরবের ওপর যেকোনও হামলা বা হুমকির কঠোর নিন্দা জানায় তিন দেশ।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিন দেশ সম্মিলিত প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। প্রয়োজনীয় সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা সৌদি আরবে সরবরাহ এবং দ্রুত মোতায়েন নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। তবে সৌদি আরবে কত সেনা মোতায়েন করা হবে বা তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব কী হবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি।

আগস্টে স্বাক্ষরিত তিন দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির পর এই বৈঠককে জোটের প্রথম বড় বাস্তব পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ৭ আগস্ট মক্কায় চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। চুক্তির মূল লক্ষ্য, তিন দেশের যেকোনও একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সম্মিলিতভাবে তা মোকাবিলা করা।

এদিকে, বৈঠকে পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নওমান মাহমুদকে তিন বছরের জন্য মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব নিয়োগ করা হয়েছে। জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সামরিক সমন্বয় বাড়াতেই এই নিয়োগ বলে জানা গেছে।

রিয়াদের বৈঠকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের ও সেনাপ্রধান জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগলু অংশ নেন। পাকিস্তানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ফায়াদ বিন হামেদ আল-রুওয়াইলি।

বৈঠক শেষে তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় কী ধরনের সহায়তা দেওয়া যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের চলমান সংকট সামরিক উপায়ে নয়, শান্তিপূর্ণভাবে ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনাও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ সামরিক প্রস্তুতি জোরদারের পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রাখতে চাইছে জোটের সদস্যরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *