বরাক তরঙ্গ, ২৫ সেপ্টেম্বর: ‘বন্দে মাতরম্’-এর ১৫০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার রংপুরের প্রদীপ ভবনে আয়োজিত হল বিশেষ সমবেত পরিবেশনা। ‘নমামি ভারতম্’ কর্মসূচির আওতায় বিদ্যাভারতী অখিল ভারতীয় শিক্ষা সংস্থানের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে এবং সরস্বতী বিদ্যা নিকেতনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০০ জন অংশ নেন।
প্রদীপ প্রজ্বলন ও বন্দনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। স্বাগত ভাষণ দেন সরস্বতী বিদ্যা নিকেতনের আচার্য পিঙ্কি দাস। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি-সাহিত্যিক অতীন দাশ, বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালা, শিক্ষা বিকাশ পরিষদের সহ-সম্পাদক কৌশিক কুমার দে, সমাজসেবী পুলক দেব ও দীপক দাস, লেখিকা তথা মুখ্য বক্তা কানন নাথ মজুমদার, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও আইনজীবী ড. কস্তুরী হোম চৌধুরী, কবি-সাহিত্যিক জয়ন্তী দত্ত এবং সমাজসেবী আরতি দাশ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নৃত্যগুরু শুভ্রাংশু নাথ মজুমদার, সংগীতশিল্পী বিশ্বরাজ ভট্টাচার্য, শিল্পী মনোদীপ দেবনাথ ও কমলেন্দু দেব।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অতীন দাস ‘বন্দে মাতরম্’-এর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য তুলে ধরেন। বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালা শিক্ষার্থীদের দেশের ঐতিহ্য ও জাতীয় চেতনা সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। অন্যান্য বক্তারাও জাতীয় জীবনে ‘বন্দে মাতরম্’-এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল সকাল ১১টায় প্রায় ৫০০ জনের সমবেত কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম্’ পরিবেশন। একই সুর, লয় ও ছন্দে পরিবেশিত এই সংগীতকে ঘিরে অনুষ্ঠানস্থলে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান উপলক্ষে অঙ্কন, নৃত্য, সংগীত, ফ্যান্সি ড্রেস ও কুইজ প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীদের হাতে পুরস্কার ও শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সভাপতি জয়ন্ত ভট্টাচার্য, প্রধান শিক্ষিকা সম্পা রায়, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন আচার্য ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রতিনিধি এবং সাধারণ নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।
শেষে প্রধান শিক্ষিকা সম্পা রায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। কল্যাণ মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।



