২৪ সেপ্টেম্বর : জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) ভূমিকা এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো নিয়ে কড়া আক্রমণ শানাল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি (CJP)। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত নানা বিতর্ককে সামনে রেখে খাস রাজধানীতে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke)। সেখান থেকেই তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি পদত্যাগ না করলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সিজেপি, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যে শোরগোল শুরু হয়েছে।
সাংবাদিক বৈঠকে সিজেপি প্রধান দাবি করেন, দেশের নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে নিরপেক্ষতা হারিয়েছে এবং ভোটারদের ভোটাধিকারকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, শাসক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতে এবং নির্বাচনে কারচুপি করতেই পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা নিয়ে নানা কারসাজি করা হচ্ছে। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সুনিশ্চিত করার স্বার্থেই জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে বলে দাবি করেন তিনি। অন্যথায় গত জুন মাসে যন্তর মন্তরে হওয়া আন্দোলনের আদলে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় তোলা হবে এবং যতদিন না সিইসি পদত্যাগ করছেন, ততদিন এই আন্দোলন থেকে তাঁরা একচুলও পিছপা হবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের অন্দরের বিতর্ক নিয়েও সোচ্চার হন দীপকে। তাঁর দাবি, গত দশ মাস ধরে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিভিন্ন সংশোধন, ভোটার সংযোজন-বিয়োজন এবং ফর্ম ৬-এর নানা দিক নিয়ে প্রায় ১৪ বার নিজেদের আপত্তি জানিয়েছিলেন। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভ্যন্তরীণ দ্বিমতের কথা উড়িয়ে দিয়ে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। যেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে কমিশনের অন্দরে ভিন্ন মত থাকা এবং অভ্যন্তরীণ আলোচনা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং এসআইআর সহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই সর্বসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও সিজেপির পক্ষ থেকে কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড়ো প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
অভিজিৎ দীপকের আরও অভিযোগ, বর্তমান কমিশনের কার্যকলাপে দেশের গণতন্ত্রের মূল ভিতটাই নড়ে গিয়েছে। তাঁর মতে, আগে দেশের মানুষ ভোট দিয়ে সরকার নির্বাচন করত, কিন্তু বর্তমানে কমিশনের কার্যকলাপে মনে হচ্ছে সরকারই ঠিক করে দিচ্ছে কাদের ভোট দেওয়ার অধিকার থাকবে আর কাদের থাকবে না। দেশজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন তিনি। এই বিশাল সংখ্যাটি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মাত্র দুই শতাংশ ভোট ব্যবধানের চেয়ে অনেক বেশি বলে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, রাজনৈতিক ব্যবধান বাড়াতেই কি এত বড় সংখ্যক ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলো?
পাশাপাশি, বিরোধী দলগুলির শীর্ষ নেতাদের নির্বাচনী এলাকায় ভোটার তালিকা কাটার সুনির্দিষ্ট অভিযোগও তুলেছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এম কে স্ট্যালিন, অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং পিনারাই বিজয়নের মতো হেভিওয়েট নেতাদের কেন্দ্রগুলিতে ভোটার তালিকা থেকে হাজার হাজার নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি টেনে এনে তিনি দাবি করেন যে সচেতনভাবে বিরোধী শক্তিগুলিকে দুর্বল করার ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা হয়েছিল। উদ্ধব ঠাকরের দলের ভাঙন এবং তাঁদের হাত থেকে আসল প্রতীক কেড়ে নিয়ে অন্য দলকে পাইয়ে দেওয়ার পেছনেও নির্বাচন কমিশনের সক্রিয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি। সমস্ত বিরোধীদের নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে কি আদৌ কোনো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব, সেই প্রশ্ন তুলেই আগামীদিনে নির্বাচন কমিশনের সংস্কারের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে সিজেপি।




