১৬ সেপ্টেম্বর : দীর্ঘ ১৩ বছর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ছত্তীসগঢ়ের মর্মান্তিক ঝিরামঘাটি মাওবাদী (JheeramGhati Maoist Attack Verdict) হামলা মামলায় কড়া পদক্ষেপ করল বিচারব্যবস্থা। আলোচিত এই মামলায় অভিযুক্ত ১০ জনকেই সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে এনআইএ আদালত। গত ৫ সেপ্টেম্বর নিম্ন আদালত এই ১০ অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। এরপর বুধবার জগদলপুরের এনআইএ বিশেষ আদালত তাদের চূড়ান্ত রায়ে ফাঁসির সাজা ঘোষণা করে।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৩ সালের ২৫ মে। বস্তারের ঝিরামঘাটিতে ছত্তীসগঢ়ের তৎকালীন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নন্দকুমার পটেল, তাঁর পুত্র দীনেশ, তৎকালীন বিরোধী দলনেতা মহেন্দ্র কর্মা, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিদ্যাচরণ শুক্ল এবং প্রাক্তন বিধায়ক উদয় মুদলিয়ার সহ কংগ্রেস নেতাদের একটি কনভয় লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালায় মাওবাদীরা। ২২১ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপরে এই আইইডি বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই ২৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া গুরুতর জখম হন অন্তত ৩৫ জন, যাঁদের মধ্যে পরবর্তীতে আরও তিন জনের মৃত্যু হয়। শুধু রক্তক্ষয়ী হামলা চালিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি মাওবাদীরা, ঘটনার পর পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র, ওয়াকি-টকি এবং মোবাইল ফোন পর্যন্ত লুট করে নিয়ে পালিয়েছিল তারা।
এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া চলে। এনআইএ-র পক্ষ থেকে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে জগদলপুরের বিশেষ আদালতে প্রথম চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হলেও, পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত চার্জশিটে আরও ৩০ জনের নাম যুক্ত করা হয়। বিচারপর্ব চলাকালীন এই মামলায় মোট ১০১ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নথিভুক্ত করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখেন বিচারকরা। ধৃতদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইন সহ একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছিল। অবশেষে গত ৫ সেপ্টেম্বর আদালত ১০ জন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করলেও সেদিনের মতো সাজা ঘোষণা স্থগিত রেখেছিল। অবশেষে বুধবার সেই বহুল প্রতীক্ষিত মামলার চূড়ান্ত রায়েই এল মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ।
খবর : উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল।



