৫৩ ঘণ্টা পর প্রত্যাহার ‘স্টিয়ারিং ছাড়ো’ আন্দোলন, প্রশাসনের আশ্বাসে স্বাভাবিক NH-306

Spread the news

রাজীব মজুমদার, ধলাই।
বরাক তরঙ্গ, ১ সেপ্টেম্বর : অবশেষে ৫৩ ঘণ্টা পর প্রত্যাহার করা হলো বরাক উপত্যকার ট্রাকচালকদের অনির্দিষ্টকালের ‘স্টিয়ারিং ছাড়ো’ আন্দোলন। মিজোরামে অসমের পণ্যবাহী ট্রাকচালকদের হয়রানি এবং বালি বোঝাই ট্রাক চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগের স্থায়ী সমাধানের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের অবসান ঘটে মঙ্গলবার রাত ১১টা নাগাদ।

ধলাই থানার কনফারেন্স হলে দুই রাজ্যের প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে ট্রাকচালক ইউনিয়নের দীর্ঘ বৈঠকের পর আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ট্রাকচালক সংগঠনের দাবি, বৈঠকে তাদের উত্থাপিত সমস্ত দাবিই মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে মিজোরাম প্রশাসন। প্রশাসনের এই আশ্বাসের পরই আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন চালকরা।

দুই রাজ্যের প্রশাসনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ধলাই থানার কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ বৈঠকে সমাধানের পথ বেরিয়ে আসে। ট্রাকচালক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের দাবিগুলি মেনে নেওয়ার প্রশাসনিক আশ্বাস পাওয়ার পরই আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত ১১টা নাগাদ আন্দোলন প্রত্যাহারের পর NH-306-এর দু’পাশে আটকে থাকা যানবাহনগুলো ধীরে ধীরে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর ফলে দীর্ঘ ৫৩ ঘণ্টার অচলাবস্থার অবসান ঘটে এবং অসম-মিজোরাম রুটে পণ্য পরিবহন ফের স্বাভাবিক হওয়ার পথে।

ট্রাকচালক সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাস বাস্তবে কার্যকর হলে তাঁরা আর আন্দোলনের পথে যাবেন না। তবে ভবিষ্যতে একই ধরনের হয়রানি বা সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলে সংগঠন পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে।

দীর্ঘ ৫৩ ঘণ্টার আন্দোলনের পর প্রশাসনিক বৈঠকের মাধ্যমে অচলাবস্থা কাটায় আপাতত স্বস্তি ফিরেছে অসম-মিজোরাম সীমান্তবর্তী এলাকায়। স্বাভাবিক হয়েছে আটকে থাকা পণ্যবাহী যান চলাচলও।

উল্লেখ্য, রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হয়েছিল ট্রাকচালকদের ‘স্টিয়ারিং ছাড়ো’ আন্দোলন। প্রথমে চন্নিঘাট ও পরবর্তীতে লায়লাপুর সীমান্ত এলাকায় আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মিজোরাম অভিমুখী পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় NH-306-এর দু’পাশে আটকে পড়ে বিপুল সংখ্যক পণ্যবাহী যান।

আন্দোলনরত চালকদের অভিযোগ ছিল, মিজোরামের বিভিন্ন এলাকায় অসম থেকে যাওয়া ট্রাকচালকদের নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে বালি বোঝাই ট্রাককে বাধা দেওয়া, গাড়ি থেকে বালি খালি করে ফিরিয়ে দেওয়া এবং চালকদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছিলেন তাঁরা।

সমস্যার সমাধান না হওয়ায় একপর্যায়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান শতাধিক ট্রাকচালক। প্রশাসনের প্রতিনিধিরা আটকে থাকা যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিলে আন্দোলনরত চালকদের সঙ্গে তাঁদের উত্তেজনাও তৈরি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *