শমীন্দ্ৰ পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ২ সেপ্টেম্বর : কালাইনছড়া দিগরখাল টোলগেটে মঙ্গলবার রাতে বেশ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বৈধ কাগজপত্র, চালান ও নির্ধারিত ওজন থাকা সত্ত্বেও লাইমস্টোন বোঝাই টিপার আটকে রাখার অভিযোগ উঠে দিগরখালের কালাইনছড়া-গুমড়া পুলিশের নাকা চেকগেটে। কোনও লিখিত নিষেধাজ্ঞা বা স্পষ্ট কারণ না দেখিয়েই ট্রাক চলাচল বন্ধ রাখা হচ্ছে – মঙ্গলবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত এমন অভিযোগ উত্থাপন করে ক্ষোভে ফুঁসেন টিপার ও ট্রাকের মালিক ও চালকরা।
‘কার নির্দেশে টিপার বন্ধ?’ – কালাইনছড়া নাকায় সরব মালিক-চালক
মালিকদের দাবি, মেঘালয় থেকে বরাক উপত্যকামুখী একাধিক লাইমস্টোন বোঝাই টিপার বা ট্রাক প্রায় তিন মাস ধরে আটকে রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, গাড়িগুলোর প্রয়োজনীয় নথিপত্র বৈধ থাকা সত্ত্বেও কেন গন্তব্যের দিকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা মিলছে না।
ট্রাক মালিকদের সরাসরি প্রশ্ন – ‘গাড়ি আটকে রাখার নির্দেশ কার? কোন আইনের ভিত্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা?’ তাঁদের অভিযোগ, নাকা চেকগেটে গাড়ি থামিয়ে দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে লিখিত নির্দেশও দেওয়া হচ্ছে না।
গুমড়া সেতুর নিরাপত্তা বা ওজনসীমা নিয়ে প্রশাসনের বিধিনিষেধ থাকলে তা মানতে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন মালিকরা। তবে তাঁদের প্রশ্ন, নির্ধারিত ওজনের মধ্যে থাকা এবং বৈধ নথিপত্রসম্পন্ন ট্রাকগুলোকেও কেন একইভাবে আটকে রাখা হচ্ছে?
দীর্ঘদিন গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় কিস্তি, বিমা, রক্ষণাবেক্ষণ ও চালক-খালাসির বেতনসহ একাধিক খরচ বহন করতে হচ্ছে বলে দাবি মালিকদের। এর জেরে পরিবহণ ব্যবসার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদেরও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
টিপার মালিকদের দাবি, যদি সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকে, তাহলে লিখিত নির্দেশ, কারণ এবং কার্যকর থাকার সময়সীমা প্রকাশ্যে জানানো হোক। আর কোনও আইনগত বাধা না থাকলে বৈধ নথিপত্র ও নির্ধারিত ওজনের টিপার গুলোকে দ্রুত চলাচলের অনুমতি দেওয়া হোক। কালাইনছড়া-গুমড়া নাকা চেকগেটে টিপার ও ট্রাক আটকে রাখার অভিযোগ ঘিরে এখন প্রশাসনের স্পষ্ট জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন মালিক, চালক ও লাইমস্টোন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সকলেই।



