পিএনসি, গুয়াহাটি।
বরাক তরঙ্গ, ৩১ আগস্ট : অসমে দুগ্ধ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। সোমবার দিশপুরের লোকসেবা ভবনে দুগ্ধ খাতের অগ্রগতি নিয়ে এক পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি, সমবায় নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ এবং প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য দুগ্ধ উন্নয়ন সঞ্চালকালয়কে লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।।বৈঠকে রাজ্যের সামগ্রিক দুগ্ধ উৎপাদন, চাহিদা, প্রাপ্যতা এবং জেলাভিত্তিক দুধ উৎপাদনের চিত্র পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি দুগ্ধ সমবায় সমিতিগুলির বর্তমান পরিস্থিতি, বিশেষ করে সংগঠিত ও নিবন্ধিত সমিতির মধ্যে থাকা ব্যবধান নিয়েও আলোচনা হয়। ‘৫ টাকা অনুদান প্রকল্প’-এর বাস্তবায়ন, এর আওতা, সমবায় সমিতির নিবন্ধন পোর্টাল এবং সুবিধাভোগী অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে থাকা ঘাটতিগুলিও খতিয়ে দেখা হয়।
বিভাগীয় আধিকারিকরা জানান, বর্তমানে অসমে দৈনিক প্রায় ৩৩.৫৩ লক্ষ লিটার দুধ উৎপাদিত হচ্ছে। বার্ষিক উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ১২,২৪০ লক্ষ লিটার। রাজ্যে মোট ২,০০৬টি সংগঠিত দুগ্ধ সমবায় সমিতি রয়েছে, যার মধ্যে ১,০৩২টি নিবন্ধিত। বর্তমানে রাজ্যের দুধ প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতা দৈনিক ৪.৯৫ লক্ষ লিটার। এর পাশাপাশি আরও ৪.২০ লক্ষ লিটার দৈনিক প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতার পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। আসন্ন দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলি বজালি, যোরহাটের কলিয়াপানী, ডিব্রুগড়ের লাহোয়াল, ধেমাজির রঙাজান, শোণিতপুরের জামুগুড়িহাট এবং কামরূপ জেলার রানীতে স্থাপন করা হচ্ছে।
দুগ্ধ খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি পঞ্চবার্ষিকী কর্মপরিকল্পনা তৈরির বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এতে দুগ্ধ সমবায় সমিতি শক্তিশালী করা, দুধ সংগ্রহ বৃদ্ধি, প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত গোটা মূল্য শৃঙ্খলকে আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী পশুপালন ও পশুচিকিৎসা বিভাগ, সমবায় বিভাগ, দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণকারী এবং দুগ্ধচাষীদের নিয়ে একদিনের একটি চিন্তন শিবির আয়োজনের নির্দেশ দেন। সেখানে অনুদান ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, উচ্চ দুগ্ধ উৎপাদনকারী অঞ্চল চিহ্নিতকরণ, ঐতিহ্যবাহী দুগ্ধ উৎপাদন কেন্দ্রগুলিকে উৎসাহ দেওয়া, দুধ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণে ‘হাব অ্যান্ড স্পোক’ মডেল চালু করার সম্ভাবনা এবং প্রতিটি গ্রামে দুগ্ধ সমবায় সমিতি গঠনের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া দুগ্ধ উন্নয়ন সঞ্চালকালয়ের শূন্যপদগুলি সরাসরি নিয়োগ ও পদোন্নতির মাধ্যমে দ্রুত পূরণের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা তৈরির জন্য একটি বিস্তৃত গবাদিপশু সমীক্ষা চালানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ‘লখিমী’ জাতের গবাদিপশু সংরক্ষণ ও প্রসারের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেন ড. শর্মা। মহিলা পরিচালিত দুগ্ধ সমবায় সমিতির মাধ্যমে এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। একইসঙ্গে মহিলাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, সমবায় নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, উন্নত দুধ সংগ্রহ ব্যবস্থা এবং প্রক্রিয়াকরণ পরিকাঠামো শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে পশুপালন ও পশুচিকিৎসা এবং মৎস্য বিভাগের মন্ত্রী নীলিমা দেবী, প্রধান সচিব ড. রবি কোটা, অতিরিক্ত প্রধান সচিব কেসি সামরিয়া, মুখ্যমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রধান সচিব ড. কেকে দ্বিবেদী-সহ দুগ্ধ উন্নয়ন সঞ্চালকালয়ের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।



